মো: মহিন উদ্দীন: চট্টগ্রাম নগরীতে আড়তে সবজির দাম কমলেও বেড়েছে খুচরা বাজারে। দেশের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে ক্ষেতে লাগানো সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই চট্টগ্রাম সহ দেশের সর্বত্র সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে সবজির দাম এমন দাবী খুচরা ব্যবসায়ীদের।
তবে এমন দাবীকে প্রত্যাখান করে আড়তদার সমিতি জানান, বন্যার প্রভাবে এখনও সবজির দাম বাড়েনি। বরং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় আমরা যে সবজি খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি তার দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে তারা।
এদিকে সবজির দাম বাড়ায় আলুর ওপর চাপ পড়ায় সেটির দামও বেড়েছে। তবে সরবরাহ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় কমেছে ইলিশ মাছের দাম। একই সঙ্গে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দামও কমেছে।
সোমবার (১৬ আগস্ট) নগরীর কয়েকটি কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় কমেছে ইলিশের দাম। নদীতে ও সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তাই সরবরাহ বেশি। আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেকটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ মাছ।
ব্রয়লার মুরগির দাম কমার কারণ ব্যাখ্যা করে ব্যবসায়ীরা জানায়, এখনও অনেকের বাড়ির ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষিত আছে। সাধারণ মানুষের কাছে মাংসের চাহিদা কিছুটা কমেছে। তাই দাম কমেছে ব্রয়লার মুরগির।
নগরীর রিয়াজউদ্দীন বাজারে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত বাধাঁকপি প্রতিকেজি ৭০ টাকা, ফুলকপি ১০০ টাকা, শিম ১৫০ টাকা, মানভেদে চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ঝিঙার কেজিও ৬০ টাকা, প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চাল কুমড়ার (জালি) প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ৪০ টাকা এবং পেঁপের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। দাম বেড়ে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা দরে।
সবজির দাম বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে ডিমের। এই সুযোগে ডিমের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বাজার ভেদে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১১০ টাকা দরে। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। ৭৫০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
বন্যায় কাঁচামরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দাম চড়া। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। যার বেশিরভাগই ভারত থেকে আমদানিকৃত।
এখন টমেটো ও গাজরের মৌসুম নয়। অনেকটাই কৃত্রিমভাবে এগুলোর আবাদ করেছেন চাষিরা। সেগুলোও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই দাম বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। মানভেদে গাজরের কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা।
রিয়াজউদ্দীন বাজারে খুচরা ব্যবসায়ী মোবারক সিপ্লাসকে বলেন, এখন শিম ১৫০ টাকা, বাধাঁকপি ৭০ টাকা, ফুলকপি ১০০টাকায় বিক্রি করি। কারণ এখন মৌসুম নয়। তাই আমরা বেশি দামে কিনছি। তার জন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাছাড়া আমি যে সব সবজি বিক্রি করছি তা সবই লোকাল এলাকা থেকে কিনে এনেছি।
রিয়াজউদ্দীন বাজারের আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী সিপ্লাস প্রতিবেদককে বলেন, বন্যা কিংবা বৃষ্টির জন্য কোন সবজির দাম বাড়েনি। বরং সবজির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে। আমরা পটল পাইকারী বিক্রি করি কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা দামে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা সে পটল বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দামেে। এ থেকে বুঝা যায়, তারা আমাদের থেকে কিনে কতগুণ বেশি দামে বিক্রি করে। নতুন উৎপাদিত বাধাঁকপি আমরা কেজি প্রতি ১৮ টাকা দামে বিক্রি করি। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা তা বিক্রি করে ৭০ টাকা দামে। খুচরা বাজারে কোন ধরনের তদারকি না থাকার জন্যই এমনটি হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন।








