সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সিল স্বাক্ষর নকল বা জালিয়াতি করে নকল জাতীয়তা সনদ বা জন্ম নিবন্ধন সনদ দেয়ার কাজ কারবার চলছে অনেক দিন ধরেই।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর থেকে এসব জালিয়াতির খবর পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। এই সুযোগে অনেক রোহিঙ্গাই অবৈধভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে এসব জাল জালিয়াতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জড়িত থাকলেও অনেক সময় জনপ্রতিনিধিদের অগোচরেই চলছে এসব কাজ কারবার।
সম্প্রতি সেরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে নগরীর ১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে । যেখানে মুছা এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ফটোকপির দোকানে চলছে রমরমা সনদ বাণিজ্য। স্থানীয় কাউন্সিলর অধ্যাপক ইসমাইল এর সিল নকল করে এবং স্বাক্ষর স্ক্যান করে ১৫০ টাকার বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা এই ব্যবসা চালাচ্ছিলো।
তবে কিভাবে ধরা পড়ছে এই জাল জালিয়াতির ব্যাপারটা তা জানতে চাইলে কাউন্সিলর অধ্যাপক ইসমাইল সিপ্লাসকে বলেন, সম্প্রতি আসমা বেগম নামে একজন মহিলা দক্ষিন কাট্টলী কাউন্সিলর অফিসে আসেন নাগরিকত্ব সনদের জন্য । ওয়ার্ড সচিব উক্ত মহিলাকে বলেন নাগরিকত্ব সনদ নিতে হলে আপনাকে জাতীয়তা সনদ ও যে বাসায় আছেন সেখানকার ভাড়ার রসিদ লাগবে। এক পর্যায়ে এই মহিলা বলে উঠেন আমার কাছে আগের একটা সনদ আছে তবুও আরেকটা লাগতেছে তাই আসছি।
মহিলা আরও বলেন , আমি দুই জায়গায় চাকরির আবেদন করেছি তাই দুইটা সনদ দরকার হচ্ছে আমার। তখন ওয়ার্ড সচিব মহিলার কাছে থাকা জাতীয়তা সনদটি দেখতে চাইলে মহিলা সেটা দেখান। সেটি হাতে নিয়ে দেখা যায় সে সনদে থাকা স্বাক্ষরটি স্ক্যান করে বসানো। সে সনদে বারকোড ছিল না। সিটি কর্পোরেশনের অনলাইন ডাটাবেসেও নাই এই সার্টিফিকেট।
মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন ওয়ার্ড অফিস সংলগ্ন গলিতে মুসা এন্টারপ্রাইজ নামের দোকান থেকে তিনি এই জাল সনদ সংগ্রহ করেন।
পরে হালিশহর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সনদ জালিয়াতির মুলহোতা মোঃ খালেককে গ্রেফতারসহ বিপুল পরিমাণ ভুয়া জাতীয় সনদ, জন্ম সনদ জব্দ করা করে। গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম মোঃ খালেক সে মোঃ ফজলুল হকে পুত্র। তার বাড়ি হালিশহরের গলিচিপা পাড়া এলাকায়।
এই ঘটনায় কাউন্সিলের পিএস নুরুজ্জামান সান্টু বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
এই বিষয়ে হালিশহর থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিপ্লাসকে বলেন, কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইসমাইল সাহেবের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযুক্ত খালেদকে নাগরিকত্ব সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এই জালিয়াতির কথা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হচ্ছে। মামলার পরে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনঅনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

