নিউজটি শেয়ার করুন

নগরীর স্বাধীনতা কমপ্লেক্সে জমে আছে পানি, ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু ভীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতা পার্কের জমিয়ে থাকা পানি ডেঙ্গু প্রজনন ক্ষেত্র বলে অভিযোগ করছে এলাকাবাসী। লকডাউনে মাসের পর মাস ধরে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন মিনি বাংলাদেশ খ্যাত স্বাধীনতা কমপ্লেক্সে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। অথচ এই পার্কের পাশে একই ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিমের বাসা। 

দেশে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে ভয়াবহ ভাবে। ঢাকা সহ সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ও ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন।

সিটি কর্পোরেশনগুলো ডেঙ্গু রোধে চালাচ্ছে নানারকম সচেতনতামূলক কার্যক্রম । সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডেঙ্গু নিয়ে যে গবেষণা প্রকাশ করেছে সেখানে চট্টগ্রাম শহরের পনেরটি স্পটকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব স্পটের মধ্যে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি ব্লক মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ও ফরিদের পাড়ার নাম আছে, যেখানে জায়গা দুটি প্রায় কাছাকাছি । আর এই চান্দগাঁও আবাসিকের বি ব্লকের সাথেই লাগোয়া স্বাধীনতা কমপ্লেক্স।

ছবিঃ স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের বাইরে জমে আছে  স্বচ্ছ পানি

স্বাধীনতা কমপ্লেক্স বা স্বাধীনতা পার্ক নামে এই বিনোদনকেন্দ্রটি নগরীর অন্যতম একটি বিনোদনের জায়গা। একে অনেকেই মিনি বাংলাদেশ হিসেবে চেনে। বাংলাদেশের প্রায় সব দর্শনীয় স্থানের মিনি রেপ্লিকা আছে এই পার্কে। সেজন্য দেশের অনেক জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন এই পার্কে। করোনা কালীন লকডাউনে এই পার্ক সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ থাকলেও করা হচ্ছেনা কোন রক্ষণাবেক্ষন। ফলে পুরো পার্ক জুড়েই জমে আছে প্রায় হাটু সমান পানি। আর পার্ক বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই পানি গুলো জমে থাকার কারণে সেখানে জন্ম নিতে পারে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা।

এই বিনোদনকেন্দ্রের পাশেই চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা বি ব্লকের ১৪ নং রোড। এই রোডেরই একজন বাসিন্দা সিপ্লাসকে জানান, আমার বাসার জানালা বা ব্যালকনি দিয়েই এই পার্কটি দেখা যায়। আমরাতো বিগত কয়েকমাস যাবৎ ব্যালকনির দরজা খোলা বন্ধ করে দিয়েছি, নিয়মিত বন্ধ আছে জানালাও। আর মশার উৎপাততো আছেই।

১১ আগস্ট (বুধবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই পার্কের ভেতরে বাইরে প্রায় পুরো এলাকাটাই পানির নীচে। পরিস্কার পানি জমে অনেকটা লেকের মত হয়ে আছে সম্পূর্ণ কমপ্লেক্সটি।

ছবি: কমপ্লেক্সের ভিতরে জমে আছে স্বচ্ছপানি

জানা গেছে এই পার্কটি গত পাঁচ বছর ধরে ‘ওয়েল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে আছে। গত ডিসেম্বরের নয় তারিখ তাদের পূর্বের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় টেন্ডারে একই কোম্পানি এই পার্ক পরিচালনার দায়িত্ব পান।

এই ব্যাপারে পার্কের ম্যানেজার সাইহুম জনি’র সাথে সিপ্লাসের প্রতিবেদক ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এই পার্ক রোড লেবেল থেকে তিন ফুটের মত নীচু। যে কারনে অল্প একটু বৃষ্টিতেই এর ভেতরে পানি জমে থাকে। কিন্তু আমরা নিয়ম করে পানির পাম্প বসিয়ে পার্কের জমে থাকা পানি বাইরে নালায় ফেলে দিই। ইদানীং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় পানি একটু বেশি জমে থাকছে।”

ডেঙ্গুজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছে পানি অপসারণের।

এই ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর (ওয়ার্ড ৪) এসরারুল হক এসরালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ডেঙ্গু ঝুঁকির ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। ইতিমধ্যে তিনি মশক নিধনের জন্য কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন এবং তা ভবিষ্যতেও পুরোদমে চালু থাকবে। পার্কের জমে থাকা পানির জন্য তিনিও পার্কের নিচুতে অবস্থানের দিকে ইংগিত করেন। সাথে বলেন জলাবদ্ধতা দূরীকরণের যে প্রকল্পের কাজ চলতেছে সেই কাজ সম্পূর্ণ হলে পার্কের জলাবদ্ধতাও দূর হবে। তবে কখন এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন তা বলতে পারেননি।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার মুটোফোনে কয়েকবার কল করেও কথা বলতে পারেনি সিপ্লাস প্রতিবেদক।

চান্দগাঁও আবাসিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী, যতদ্রুত সম্ভব পার্কের পানি অপসারণ করে পার্ককে ডেঙ্গু মশার লার্ভা মুক্ত করতে হবে। সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে মিলে পার্কে জমে থাকা পানি অপসারণের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here