সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগর জুড়ে এডিস মশার প্রকোপ। একের পর এক শনাক্ত হচ্ছে ডেঙ্গু রোগী। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল নগরীর ৫৭টি এলাকা থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে। সংগ্রহ করা প্রতিটি এলাকাতেই পাওয়া গেছে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস। এসব মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয় গত জুলাই মাসে।
৫৭টি এলাকা থেকে সংগৃহীত ১৫টির লার্ভা শতভাগই এডিসের।
গবেষক দলের আহ্বায়ক চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূইয়া গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসব লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র, দোকানের ব্যাটারির সেল ও টায়ার এবং রাস্তার ধারে পাইপে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে।
এ গবেষণা রিপোর্ট ৩ আগস্ট মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে (চসিক) জমা দেওয়া হবে।
সিপ্লাসকে জানিয়েছেন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
এ অবস্থায় নগরবাসী মশক নিধন কার্যক্রম জোরালো করার দাবি জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে চিঠি দিয়েও এ ব্যাপারে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
গবেষক দলের আহ্বায়ক ড. রবিউল হাসান ভূইয়া গণমাধ্যমে জানান, ‘নগরে মশার আতঙ্ক বাড়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য সিটি করপোরেশনকে কার্যকর ঔষধ নিশ্চিতকরণে সহযোগিতার উদ্দেশে গঠন করেন একটি কমিটি। গত ৫ জুলাই থেকে জরিপ চালিয়ে গবেষক দল মশার লার্ভা সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থান থেকে। এ গবেষণা থেকে কার্যকর মশা নিধক ওষুধ সম্পর্কে জানা যাবে বলে আমরা মনে করি।’
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবেলায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। মঙ্গলবার ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা রিপোর্ট আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবো। রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও কোন উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন থাকলে তা দ্রুততার সাথে করা হবে। মশা নিধনের মেশিন এবং ওষুধ আমাদের রয়েছে। প্রতিদিন মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। দ্রুত গতিতে ওষুধ ছিটানোর জন্য আমরা নতুন আধুনিক মেশিনও ক্রয় করেছি। গড়ে তোলা হয়েছে দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবক। তারা নগরীর প্রতিটি এলাকায় কোথায় কিভাবে মশার উৎপত্তি ও বিস্তার হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’








