আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধুরুং নদীর উভয় তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণে চলছে হরিলুট । নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অহরহ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ নদী পাড়ের মানুষ গুলোর। বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই কোন তদারকি অভিযোগ স্থানীয়দের। বাঁধ নির্মাণে মাটির বদলে ব্যবহৃত হচ্ছে নদীর বালি। এ নিয়ে নদী পাড়ের মানুষ গুলোর মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী ও ধুরুং নদীর উভর তীরের বিশাল জনগোষ্ঠিরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৪৫ কোটি ও ব্লক নির্মাণে ১৫৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়। তারই অংশ হিসেবে হালদা নদী ও ধুরুং নদীর বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লক বসানো ও বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ করছে কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ করার আগেই কয়েকটি স্থানে ধসে গেছে সিসি ব্লক। দুর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও নদী থেকে বালি আর নদীর পাড় ঘেঁষে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করায় বাঁধের স্থায়ীত্ব নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
সরেজমিনে বেড়িবাঁধ নির্মিত এলাকায় গেলে মাটির বদলে বালি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, স্থানীয়দের বাঁধার মুখে দুটি এস্কেভেটর ফেলে রেখে চলে গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফটিকছড়ি সদর পৌর এলাকার ধুরুং ব্রিজের পাশে এ দৃশ্য দেখা যায়।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্ধা হাবিবুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের আত্ন সামাজিক উন্নয়নে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ সে উন্নয়নে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এক শ্রেনীর মানুষ সব কিছুকে ভেস্তে দিচ্ছে। সে সাথে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে দিচ্ছে। নদীর দূরবর্তী স্থান থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলে ও তারা নদীর তলদেশ থেকে বালি তুলে বাঁধ নির্মাণ করছে। এতে করে এক পশলা বৃষ্টিতে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে নির্মিত বাঁধ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নদী পাড়ের বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি যাচ্ছে তাই কাজ করে যাচ্ছে। মাটির বদলে ব্যবহার করছে বালি। তাছাড়া নদীর পাড় ঘেঁষে বিশাল বিশাল গর্ত করে বাঁধ তৈরি করছে,মনে হয় না এ বাঁধ সামনের এক বর্ষা পর্যন্ত টিকে থাকবে। শুনেছি ফসলী জমি থেকে মাটি কেঁটে নেয়ার বিধান নাই, এখানে অনেকের ব্যক্তি মালিকানার ফসলী জমি থেকে মাটি কেঁটে নিয়ে গেলেও কাউকে কোন ক্ষতিপুরণ দেয়া হয়নি।
বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে বেড়িবাঁধ নির্মিত স্থানে গেলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের বাঁধার মুখে দুটি এস্কেভেটর রেখে কাজ বন্ধ করে লাপাত্তা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে বেড়িবাঁধ নির্মাণে কাজ করছে আহসান এন্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মনির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, স্থানীদের বাঁধার কারনে আমরা সেখানে কাজ বন্ধ রেখেছি। আর সেখানে মাটিও পাওয়া যাচ্ছে না। তা আমরা অফিসকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি। যে অংশে বালি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়ে গেছে তার ব্যবস্থা কি নিবেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, তনয় কুমার ত্রিপুরা মুঠোফোনে বলেন, বালি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কোন নিয়ম নাই। আপনি আমাকে জানিয়েছেন, আমি নোট করছি। আমি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে এখনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

