নিউজটি শেয়ার করুন

নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য

পাহাড়ি জনপদ রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়কে পরিবহন সংকটে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীরা।

ইতিপূর্বে এ সড়কে চান্দের গাড়ি (জীপ) ও রামু লাইন সার্ভিসের মিনিবাস চলাচল করলেও এখন কোনটিও চলাচল করছে না।

ফলে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ইজিবাইক (টমটম) এ সড়কে চলাচলের বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবহন সংকটের সুযোগে অটোরিক্সা ও টমটম চালকরা লাগামহীন ভাড়া আদায় করছে। এনিয়ে এসব লোলুপ চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এসড়কে চলাচলকারি যাত্রীরা। ক্ষুব্দ যাত্রীরা ন্যায্য ভাড়া আদায় এবং এ সড়কে অবিলম্বে মিনিবাস সার্ভিস চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

রামু লাইন সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নুরুল ইসলাম জানান, যাত্রী সাধারণের চাহিদা থাকলে এবং কারো আপত্তি বা বাধা না পেলে আবারো ওই সড়কে রামু লাইন সার্ভিসের মিনিবাস চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হবে।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ জানিয়েছেন, পরিবহন সংকটই ভাড়া বৃদ্ধির মূল কারণ। তাই অবিলম্বে এ সড়কে মিনিবাস সহ অন্যান্য পরিবহন চলাচলের উদ্যোগ নিতে হবে।

জানা গেছে, এ সড়কে রামু লাইন সার্ভিসের মিনিবাস চলাচল করলেও জীপ চালক-শ্রমিকদের আদিপত্যের কারণে কয়েকবছর ধরে বন্ধ রয়েছে। চলাচলকারি জীপগুলোও জরাজীর্ণ হওয়ায় এখন এসড়কে চলাচল করছে না।

কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপি নেতা দিদার জানিয়েছেন, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া সড়কে সিএনজি চালকদের দৌরাত্ম চরম আকার ধারণ করেছে। দিনের বেলায়ও সিএনজি চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। সন্ধ্যা হলেই ভাড়ার পরিমান বেড়ে যায় দ্বিগুন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের উদ্দেশ্যে চালকরা কৌশলে গাড়ির কৃত্রিম সংকটও সৃষ্টি করে।

কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এবং রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লাখো মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। অথচ অতি জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে সিএনজি-টমটম ছাড়া অন্য কোন গাড়িই পাওয়া যায়না। যা খুবই দূঃখজনক। আর এ সুযোগে লোভী চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব শুরু করেছে। তিনি অনতিবিলম্বে এ সড়কে মিনিবাস সহ যাত্রী সহায়ক বিভিন্ন পরিবহণ সার্ভিস চালুর দাবি জানান।

রামু লেখক ফোরামের সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর জানান, এ সড়কে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী হাজার হাজার শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী সহ সর্বস্তুরের জনতা চলাচল করেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে নিম্মবিত্ত ও হতদরিদ্র মানুষ চরম বিপাকে রয়েছেন। তাই সুলভে এ সড়কে যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিকদের আন্তরিক ভূমিকা রাখতে হবে।

রামু উপজেলা সিএনজি চালক-শ্রমিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন জানান, রাত বেশী হলে চালকরা একটু বেশী ভাড়া নিতে চায়। তবে দিনের বেলায় কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নেয় না। নিলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি এসড়কে সিএনজি ছাড়াও টমটম, মাইক্রো ও জীপ চলাচল করে বলে জানান।