Site icon CPLUSBD.COM

নাম ঘোষণা ছাড়াই শেষ হল চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ‘ভার্চুয়াল’ সম্মেলন

সিপ্লাস প্রতিবেদক: ২০ বছরের অপেক্ষা ঘুছানোর শুরুটা হয় উৎসব আমেজে আর কোন নাম ঘোষণা ছাড়াই শেষ হল চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ‘ভার্চুয়াল’ সম্মেলন।

শনিবার (১৯ জুন) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিন্সটিটিউশনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা এবং পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক উৎসব।

সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই উৎসব মুখর ছিল ইঞ্জিনিয়ার ইনিন্সটিটিউশন প্রাঙ্গন। যদিও শুরু থেকেই বলা হয়েছিল নির্ধারিত সদস্যের বাইরে কেউ সম্মেলনস্থলে থাকতে পারবে না কেউ। পদ প্রত্যাশী নেতাদের কর্মীরা ভিড় করে আছে সম্মেলন অনুষ্ঠানের আশেপাশে।

চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নগরীর লালখান বাজার ইস্পাহানির মোড় থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিন্সটিটিউশনের আশেপাশে ছেঁয়ে গেছে পোস্টার আর ব্যানারে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ‘ভার্চুয়াল’ সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে ২৫০ জন কাউন্সিলর ও ২৫০ জন ডেলিগেট থাকলেও দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে নতুন কমিটি ঘোষণার কথা হলেও তা আর হয়নি। তবে ১০১টি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ৬শতাধিকেরও বেশি। শুধু সভাপতি পদের জন্য ৪২ জন এবং সাধারণ সম্পাদকের জন্য ৩২ জন প্রার্থী বায়োডাটা জমা দেন। একক কোন প্রার্থী না থাকায় উক্ত কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করবে বলে জানানো হয়।

ভার্চুয়াল এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সময়ে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ ভয়ঙ্কর মাত্রায় পৌঁছে গেছে। আমাদের সীমান্ত এলাকার সমস্যা খুব প্রকট। ঢাকায়ও বিশেষজ্ঞরা আরও ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ভারতে তৃতীয় যে ওয়েভের আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা, ইতিমধ্যে ভারতীয় মিডিয়ায় খবর এসেছে। কাজেই সামনের দিনগুলো খুব ভালো যাবে না, এটাই সত্য। এসময় আমাদের নিজেদেরও রক্ষা করতে হবে, মানুষকেও বাঁচাতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আজকে সারাবিশ্ব সমীহ করে। ভাবতেই পারেন, বাংলাদেশ আজকে তিন তিনটা দেশকে ঋণ দিয়েছে। প্রত্যেকটি সূচকে আমরা আজকে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে, পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি। কাজেই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশের তকমা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘কিন্তু বাংলাদেশের একটা মহল এই উন্নয়ন দেখতে পারে না। এই দলটি দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে। এই দলটি পূর্ণিমার ঝলমলে আলোতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখে। এই দলটি হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’।

তিনি বলেন, দেশের এই অমিত সম্ভাবনা উন্নয়ন ও অর্জন বিএনপির গাত্রদাহ, তাই তারা দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অর্জন তাদের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্মেলন নিয়ে তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্ব বাছাই একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এর সাথে কারো পরাজয়ের সম্পর্ক নেই, তেমনি কারো বিজয়ের উল্লাস নেই। যারা নির্বাচিত হবেন তাদের বড় দায়িত্ব বর্তায়। দেশপ্রেমিক কর্মীরাই কিন্তু দেশনেত্রী শেখ হাসিনার শক্তি, আওয়ামীলীগের শক্তি।

তিনি আরও বলেন, আজকে আমাদের সামনে দু’টি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনা প্রতিরোধ করা, আরেকটি হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতাকে মোকাবেলা করা। এই দু’টি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে স্বেচ্ছাসেবকলীগ সুশৃঙ্খলবদ্ধ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে এগিয়ে যাবে- এটাই আমি প্রত্যাশা করি।

সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।