সিপ্লাস ডেস্কঃ তালেবান তাদের সরকারে নারীদের যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে। বাহিনীটির সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য ইনামুল্লাহ সামানগানি এ আহ্বান জানান। তালেবান দেশটি দখল করে নেওয়ার পর শাসনব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে প্রথম মন্তব্য এল। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
সামানগানি বলেন, ইসলামিক আমিরাত নারীরা ক্ষতির শিকার হোক, তা চায় না। শরিয়াহ আইন অনুযায়ী সরকারে তাঁদের উপস্থিতি থাকা উচিত। তিনি বলেন, এখনো সরকারের কাঠামো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতার আলোকে মনে হচ্ছে, এখানে পুরোপুরি ইসলামিক নেতৃত্ব থাকবে। এতে সব পক্ষেরই যোগ দেওয়া উচিত।
তালেবান কট্টর ইসলামপন্থী সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও তারা এতদিনে রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ নমনীয় হয়েছে। রোববার আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর দেশটির টেলিভিশনে এখনো নারীরা সংবাদ উপস্থাপন করছেন। নারী সাংবাদিকের সাথে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারও দিচ্ছেন তালেবান নেতারা।
তালেবানদের কাবুল অভিযানের প্রেক্ষিতে আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ টিভি কর্তৃপক্ষ তাদের স্ক্রিনে কোনো নারী উপস্থাপিকাকে হাজির করেনি। এবার আবার তারা নারীদের পর্দায় তুলে এনেছে। টোলো নিউজে খবর পাঠ করতে দেখা গেছে উপস্থাপিকাকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
তবে টোলো নিউজের প্রধান মিরাকা পোপাল টুইট করেছেন। তাতে তিনি দেখিয়েছেন যে নারী সংবাদ উপস্থাপিকা তালেবানদের মিডিয়া টিমের এক সদস্যকে স্টুডিওতে সরাসরি সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।
তিনি আলাদাভাবে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, সকালে নিউজরুমে প্রাতঃকালীন এক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন মাথায় হিজাব পরা এক নারী।
তালেবানের হাতে পতনের পর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পরিস্থিতি ক্ষণে ক্ষণে পাল্টাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এখানকার সব প্রশাসনিক দপ্তর ও স্থাপনায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি।
আর নিরাপত্তা বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে সন্তর্পণে। দীর্ঘ দুই দশক পর পুরো আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আবার ফিরেছে তালেবান।








