সিপ্লাস ডেস্ক: করোনাভাইসে আক্রান্ত হয়ে তিন সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়ার পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী হাসপাতাল থেকে সরাসরি বনানী কবরাস্থানে হাজির হলেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে শেষ বিদায় জানাতে।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বনানী কবরস্থানে গিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিমের কফিনের সামনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ডান হাত উঁচিয়ে ‘স্যালুট’ জানান।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকরা বলছেন, তাদের তৈরি করা র্যাপিড কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষায় শনিবার জাফরুল্লাহর করোনাভাইরাস ‘নেগেটিভ’ এসেছে। তাদের ভাষায়, জাফরুল্লাহ এখন ‘করোনাভাইরাস মুক্ত’।
অবশ্য ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট কিট’ নামের ওই র্যাপিড টেস্টিং কিট এখনও সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন পায়নি। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কেবল রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) পদ্ধতিতেই করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার পরীক্ষার অনুমতি রয়েছে, যা বিশ্বে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রটোকল অনুযায়ী কারও কোভিড-১৯ ধরা পড়লে উপসর্গ কমে এলে পর পর দুটি পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ এলে তখন তার শরীরে আর ‘ভাইরাসের সংক্রমণ নেই’ বলে নেওয়া হয়।
গত ২৫ মে র্যাপিড ডট ব্লট কিটে নিজের নমুনা পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ ফল আসার কথা জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পরে বিএসএমএমইউতে তার আরটি-পিসিআর টেস্টেও পজিটিভ আসে তার। তবে তিনি ভাইরাসমুক্ত হয়েছেন কি না, তা আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় এখনও জানা যায়নি।
আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্রেইন স্ট্রোক হলে ৭২ বছর বয়সী নাসিমকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ওই অবস্থায় শনিবার সকালে মারা যান তিনি।
রোববার ধানমণ্ডিতে এক দফা জানাজা শেষে এম মনসুর আলীর ছেলে নাসিমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বনানী কবরস্থানে। সেখানে আরেক দফা জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানো হয় এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি। সবার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে মায়ের পাশে দাফন করা হয়।

