নিউজটি শেয়ার করুন

নিউইয়র্কে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘন্টায় পিতা ও পুত্র সহ তিন বাংলাদেশীর মৃত্যু

আজিম উদ্দিন অভি, নিউইয়র্ক: কোনো প্রকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ছাড়া সাধারণত এই ধরনের ঘটনা ঘটে না। করোনাভাইরাস যে মহামারি বা ভয়ঙ্কর দুর্যোগ তা এই ঘটনাতেই প্রমাণিত।

করোনাভাইরাসে পুত্রের মৃত্যুর একদিন পরই বাবাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুই জনের মৃত্যু  হৃদয় বিদারক। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে অনেকটা পাথর মুহিবুর রহমানের পুরো পরিবার।

একটি নয়, দুটো মৃত্যুর বোঝা বহন করতে হচ্ছে তাদের। তাও এক দিনের ব্যবধানে। করোনায় ছেলে মারা গেলেন ১০ মে এবং বাবা মুহিবুর রহমানও মারা গেলেন ১১ মে করোনায়। তাও একই হাসপাতালে।

নিউইয়র্কের ব্রুকলীনের কনিআইল্যান্ডে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন মুহিবুর রহমান। মুহিবুর রহমানের ছেলে ফখরুজ্জামান অপু করোনায় আক্রান্ত হয়ে কনিআইল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। যেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি গত ১০ মে সকাল ১০টায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৪৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়েসহ আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

একই হাসপাতালে করোনায় আক্রন্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন অপুর বাবা মুহিবুর রহমান। তিনিও তার সন্তানের মৃত্যুর ঠিক এক দিন পর অর্থাৎ ১১ মে সকাল ৫টায় একই হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ৩ মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। পিতা এবং পুত্র দুইজনকেই নিউজার্সির মুসলিম গোরস্তানে একই দিন দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, মুহিবুর রহমানের দেশের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারের মাটিজুরা গ্রামে। নিউইয়র্কের বসবাসকারী পারভেজ গত ১০ মে নিউইয়র্কের মাউন সিনাই হাসপাতালে বিকেলে ৫টা ইন্তেকাল করেছেন। তার দেশের বাড়ি নোয়াখালির লহ্মীপুরে। এ নিয়ে আমেরিকায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৫৩ জনে।