আশুলিয়ায় কাজলী (৪০) নামে এক হিজড়া সর্দারের দগ্ধ লাশ তার নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমের দক্ষিণ পাশে চিত্রশাইল কান্দাইল নয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির একটি নির্মাণাধীন ৩য় তলা ভবনের নিচতলায় তার বসবাসরত কক্ষ থেকে কাজলীর দগ্ধকৃত লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত কাজলী যশোর জেলার বাসিন্দা। সে আশুলিয়ার কান্দাইল নয়াপাড়া এলাকায় ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে একটি ৩য় তলা ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতেন।
এ ব্যাপারে কাজলীর শিষ্য হিজড়া সদস্য প্রীতি জানান, কান্দাইল এলাকার ১০-১২ জন হিজড়ার সর্দার/গুরু ছিল কাজলী হিজড়া। সোমবার সকালে কাজলীর নির্মাণাধীন ভবনটির সামনে রাজমিস্ত্রি আল আমিনসহ হেলাপাররা ভবনটির কাজে এসে দরজা সামনে ডাকা ডাকি করে।
তিনি জানান, কোনো সাড়া শব্দ না পেয় আল আমীন ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁক দিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান কাজলীর গায়ে ও তার কক্ষে আগুন জ্বলছে। পরে চিৎকার দিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে এলে আস পাশের লোকজন ঘরের ভিতরে ঢুকে অগ্নিদগ্ধ লাশটি দেখতে পান।
খবর পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পরিদর্শক (তদন্ত) জাভেদ মাসুদের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা ও সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা জেলা এডিশনাল এসপি সাইদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে হিজড়া সদস্য কলি জানান, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় কাজলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। প্রতিদিনের ন্যায় সেখানে তাকে ওইদিনের কালেকশনের টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আত্মহত্যার কোনো ছাপ তার মধ্যে ছিল না।
তিনি জানান, কাজলীর সঙ্গে আবদুর রশিদ নামে এক ডাক্তারের দীর্ঘদিনের প্রেম ও ভালোবাসা ছিল। তার সঙ্গে একত্রে থাকা, চলাফেরা এবং বিভিন্ন স্থানে বেড়াতেও যেত কাজলী। আবদুর রশিদ ও কাজলীর মধ্যে কোনো প্রকার বিচ্ছেদের ফলে কাজলী আগুনে দগ্ধ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, কাজলী অত্যন্ত শক্তিশালী একজন হিজড়া সর্দারনী ছিলেন। তিনি ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে ৩য় তলা একটি ভবনের নির্মাণ করছিলেন। এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ওই বাড়িতে কাজলী একাই থাকতো।
এ ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে হয়তোবা তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ঘটে থাকতে পারে। আর এ দ্বন্দ্বের জেরেই তাকে হত্যা করে পরে আগুন দিয়ে দগ্ধ করেছে বলে তাদের ধারণা।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে এডিশনাল এসপি (অপরাধ) সাইদুর রহমান বলেন, কাজলী আত্মহত্যা করেছে না হত্যা হয়েছে এ বিষয়ে তারা গভীরভাবে তদন্ত করছেন। এর রহস্য উদঘাটনের জন্য সিআইডি ক্রাইম সদস্যদের ডাকা হয়েছে। তারা বিশদভাবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পর এ রহস্য তারা জানাবেন বলে তিনি জানান।








