Site icon CPLUSBD.COM

নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্য: চট্টগ্রামে আলু ছাড়া কিছুই মানুষের নাগালে নেই

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতি

ছবি: সিপ্লাসবিডি.নেট

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে মানুষের ওপর চেপে বসেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঘোটক। জীবন ধারণের উপযোগী প্রতিটি জিনিসের অগ্নিমূল্য। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তেল, তরিতরকারি, ফলমূল, চিনি, লবণ, গম, আটা, রুটি, বিস্কুট ইত্যাদি দ্রব্যের মূল্য আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

শনিবার (৯ অক্টোবর) নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়, সেই পেয়াঁজ এখন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬০-৬৫ টাকায়। বেড়েছে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিনের দামও। ৬৮০ টাকার ৫ লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে এখন ৭১০-৭৩০ টাকায়।

এক বিক্রেতা বলেন, একটি বা দুইটি পণ্যের দাম বাড়তে পারে। অস্বাভাবিকভাবে সব পণ্যের দাম কিভাবে বাড়ে? দেখে মনে হচ্ছে দেশে কোনো যুদ্ধ হয়েছে। কোথাও কিছু নাই। এভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমরা বিক্রেতারাও হতাশ।

নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকার কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের কাঁচাবাজার ও মুদির দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, মুদির সব আইটেমের দামই বেড়েছে । সপ্তাহ খানেক আগেও মোটা মসুর ডাল ৭০-৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন তা ৯৫-১০০ টাকা।আর মাসখানে আগে কেজিপ্রতি ৭০-৭৫ টাকার চিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেড়েছে আটা, ময়দা,আদাসহ প্রতিটি পণ্যের দাম।

বাজারে শীতকালীন সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কেজিতে কমেছে ৩০-৪০ টাকা।আর অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রে ৫-১৫ টাকা বাড়তি। তবে ক্রেতারা বলছেন, আড়তে প্রতি ঘন্টায় পণ্যের দাম ওঠানামার কারণে কোনো সবজির দাম স্থির থাকার কোনো  নিশ্চয়তা নেই। দাবি ক্রেতার।

একজন ক্রেতা বলেন, আমি সবসময় একটা খরচের বাজেট নির্ধারণ করে বাজারে আসি। কিন্তু সে বাজেটের ভেতর কোনোদিনই বাজার শেষ করতে পারছিনা। কি খাবো? তেল-পেঁয়াজ-আটা, ময়দা সবকিছুরই দাম বাড়তি। একমাত্র আলু ছাড়া সবকিছুই মানুষের নাগালের বাইরে। বাজার মনিটরিং চাই আমরা।

’ব্রয়লার মুরগিটা দাম কম ছিলো। যেটা সাদা মুরগি। কিন্তু সে মুরগি এখন আর খাওয়ার সুযোগ নাই। পেয়াঁজের দাম এত বাড়তি, মুরগি দাম এত বাড়তি। কিছুদিন আগেও ব্রয়লার ১২০ টাকায় কিনেছি। সে মুরগি এখন ১৬০ টাকা। আর সোনালী আগে ২২০ টাকা হলেও কেজি এখন ৩২০। আমরা অসহায় রীতিমতন। রোজগার সীমিত কিন্তু খরচ অনেক’, আরেক ক্রেতা বলেন।

এমন পরিস্থিতিতে, সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ পণ্যের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে। অনেকের প্রশ্ন তাই বাজারের পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার? তথ্য বলছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ নিলেও তা তেমন কার্যকর হচ্ছে বাজার নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের সংশ্লিষ্টদের এ দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা কমিশন করে হলেও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অন্যথায় পণ্যের এ দাম আরো বাড়বে।