নিউজটি শেয়ার করুন

নিয়মের তোয়াক্কা নেই চট্টগ্রাম পাহাড়তলী রেলওয়ে হাসপাতালে

   রোগীর উপস্থিতি নেই, তারপরও দৈনিক ওষুধ নেন ৫০ জন

সিপ্লাস প্রতিবেদক: তেমন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা নেই জোড়াতালি দিয়ে চলা চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে। এমন চিত্র চোখে পড়ে পাহাড়তলী ও সিআরবি রেলওয়ে হাসপাতালে।

মঙ্গলবার ( ২৫ মে) ঘড়ির কাটা যখন সকাল ৯টা তখন পাহাড়তলী রেলওয়ে হাসপাতালে স্টেনো টাইপিস্টের রুমে বসে কাজ করছেন সহকারী সার্জন ডা: চিন্ময় বিশ্বাস। তখন রুমে কিংবা আশে পাশে কোথায় দেখা যায়নি স্টেনো টাইপিস্টকে। এরপর দেখা যায় ফার্মাসিষ্ট, রোগীর নাম লিপিবদ্ধ করার রেজিস্টার ও মিড ওয়াইফের রুমে তালা দেয়। তখন ঘড়ির কাটা সাড়ে নয়টার দিকে। একইভাবে দশটার একটু আগে আসেন অফিস সহকারী।
অথচ সহকারী সার্জন বললেন অফিস সময় সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। কিন্তু যাদের আগে উপস্থিত থাকার কথা তারা আসেন পরে। এমন ভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে এ হাসপাতালে।

শুধু তা নয় দুর থেকে দেখলে বুঝা যাবে না এটা যে একটি হাসপাতাল। জরাজীর্ণ সাইন বোর্ড হলেও ভিতরে একই অবস্থা এ হাসপাতালের। এমনকি ওয়ার্ড এটেনডেন্টকে কাজ করতে হয় ফার্মাসিষ্টে অন্যদিকে স্টেচার বেয়ারারকে দিয়ে চালানো হচ্ছে এম্বুলেন্স। জনবল সংকটের কারণে এভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে রেলওয়ে হাসপাতাল। সিআরবিতে রোগীর চাপ থাকে সকালে কিন্তু পাহাড়তলীতে বিকেলে বললেন ফার্মাসিষ্ট ও সহকারী সার্জন।

প্রতিদিন ৫০ জনের অধিক রোগি ওষুধ নেন। তারপরও ওষুধ সংকট আছে বলে জানান ফার্মাসিষ্ট। এরমধ্যে পাহাড়তলী হাসপাতালের সহকারী সার্জন চিন্ময় বিশ্বাস অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি মেডিকেল অফিসার (ডিএমও)। এ ডাক্তারকে দিয়ে চলছে রেলওয়ের দুই হাসপাতাল।

রেলওয়ে হাসপাতালে ওষুধ বিতরণে চরম অনিয়ম নতুন নয় বললেন একাধিক রেলের কর্মচারী।
জানা যায়, পাহাড়তলী রেলওয়ে হাসপাতালে ১৮৩টি পদের বিপরীতে শুন্যূ রয়েছে প্রায় অর্ধশত।

পাহাড়তলী রেলওয়ে হাসপাতালের সহকারী সার্জন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব (ডিএমও) ডা: চিন্ময় বিশ্বাস সিপ্লাসকে বলেন, সবাই নির্দিষ্ট সময়ে আসেন। কিন্তু আজকে আসতে দেরি হবে বলে আমাকে জানিয়েছেন। তবে কি আর বলব? সবই তো বুঝেন এবং জানেন! এখানে খুব নাজেহাল অবস্থায় আছি। এখন হয় তো সবাই ডিউটিতে চলে গেছে তাই রোগি নেই। দেখা যাবে বিকালে রোগি আসবে। শেষমেশে তিনি আক্ষেপ করে বললেন, এখন পর্যন্ত ৫ মাসের বেতন পায়নি।

পুর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার( সিএমও) ডা: ইবনে সফি আব্দুল আহাদ সিপ্লাসকে বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হল ডাক্তার আর নার্স,অবকাঠামোগত এবং পানি। আয়রণ যুক্ত লাল পানি কি ব্যবহার করা যায়। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন আর প্রকৌশল বিভাগসহ মন্ত্রণালয়ে অনেকবার চিটি দিয়েছি এসব সমস্যা সমাধান করার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।