নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন হত্যা মামলার আসামি ছাত্রশিবির কর্মী নজরুল ইসলাম কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ মাঠে গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান।
নিহত নজরুল ইসলাম (২৫) অভিরামপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে।
পুলিশ বলছে, নজরুল ছাত্রশিবির করতেন।তার বিরুদ্ধে রাকিব হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
আর রাকিব হোসেন আমানউল্লাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন বলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন জানিয়েছেন।
সেদিনের ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ কর্মীরা জানান, আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের আমানউল্লাপুর বাজারে রোববার রাত ৮টার দিকে চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় ছাত্রশিবির কর্মীরা অতর্কিতে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।এক পর্যায়ে শিবিরকর্মীরা দোকানে ঢুকে ছাত্রলীগ কর্মীদের কুপিয়ে আহত করে। এতে ছাত্রলীগ নেতা রাবিক হোসেন, হাবিব, রনি ও মনু রায়হান আহত হন।
হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।পরে শারীরিক অবস্থায়র অবনতি হলে রাকিবকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।সোমবার দুপুরে সেখানে মৃত্যু হয় ২৫ বছর বয়সী এ যুবকের।
এছাড়া এঘটনায় আহদের মধ্যে রায়হানকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে এবং বাকিদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি হারুন বলেন, এ ঘটনায় রাকিবের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার ভোরে আসামিদের ধরতে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়।
“এ সময় ঘটনাস্থলে শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে নজরুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে পুলিশ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
এ বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের ছয় সদস্য আহত এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, পিস্তলের তিন রাউন্ড গুলি, তিনটি ছুরি ও পাঁচটি কার্তুজের খোসা জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ ইউসুফ নামে একজনকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার আলমঙ্গীর হোসেন।

