সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে চকরিয়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে যুবক নিহতের ঘটনা জানতেন না স্থানীয় সাংসদ । এমনকি এ ঘটনার ২১দিন পার হলেও এ ব্যাপারে তাকে অবহিত করেনি পটিয়া থানা পুলিশ।
জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম ১২ আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী সিপ্লাসকে জানান, কচুয়াইয়ের প্রবাসী যুবক মো. জাফরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে চকরিয়ায় ক্রস ফায়ার দেয়ার খবরটি তিনি জানতেন না। সিপ্লাস থেকে ঘটনাটি শোনার পর তিনি পটিয়া থানার ওসিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ওসি জানায়, স্থানীয় চেয়ারম্যান পটিয়া থানার ওসিকে বলেছেন ছেলেটির পরিবার ভালো না। আর ছেলের আদি বাড়ি আনোয়ারায়।
হুইপ সামশুল হক বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। আমাকে আগে জানানো হলে আমি এর ব্যবস্থা নিতাম। এখন বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। আর মামলাটি তদন্তাধীন। সুতরাং এ ব্যাপারে এখন কোন মন্তব্য করতে চাইনা।
উল্লেখ্য, পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মো. জাফর নামে ওমান ফেরত এক যুবককে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত রবিবার পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহের আদালতে এই অভিযোগে মামলাটি করেন প্রবাসী জাফরের মামা ও বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী। মামলায় সাক্ষী হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারসহ নয় জনের।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) এই ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ১২ মার্চ ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন জাফর। ‘বন্দুকযুদ্ধে’র পর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে তার পটিয়ার বাসভবন থেকে পুলিশ সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাছ থেকে ‘৫০ লাখ টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় তাকে হত্যা করে’।
জাফরের পরিবারের লোকজন জানান, গত ২৯ জুলাই ভোর ৬টার দিকে পুলিশের পোশাকধারী দুই জন এবং সাদা পোশাকের আরও বেশ কয়েকজন তাদের বাড়িতে উপস্থিত হন। এটা কথিত বন্দুকযুদ্ধের দুদিন আগের ঘটনা। জাফর দরজা খুলে দিলে তারা পটিয়া থানার সদস্য হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন।
ঈদুল আজহার আগের দিন, ৩১ জুলাই ২০২০, ভোরে কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী জাফর। স্থানীয়রা জোর দিয়ে তাকে নির্দোষ দাবি করলেও পুলিশের ভাষ্য মতে তিনি ছিলেন ইয়াবা চোরাকারবারি।








