নিউজটি শেয়ার করুন

পটিয়ায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন- এএসপি তারিক রহমান

পটিয়া প্রতিনিধিঃ পুলিশকে গণমুখী ও জনবান্ধব করার জন্য পটিয়ায় চালু করা হয়েছে বিট পুলিশিং কার্যক্রম। প্রতিটা ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম মনিটরিং, তদারকির জন্য পুলিশ সদস্যদের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কো-অপারেট করবে। ভৌগোলিক দূরত্ব ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচির অভাবে অনেক ক্ষেত্রে জনগণ পুলিশের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। পুলিশের প্রতি একটা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। পুলিশ-জনতা সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য, প্রতিটি নাগরিকের পুলিশের সেবাপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও পুলিশের সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের আদেশ অনুযায়ী পটিয়ার সতেরটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রত্যন্ত এলাকাতে পুলিশের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে বসে, আলোচনা করে পুলিশের সেবা গতিশীল করা; যেন গ্রাম্য দালালচক্র ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি না পায়। পুলিশ বাহিনীকে আরো বেশি জনমুখী করতে, মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নে চালু হয়েছে আজ রবিবার।
আশিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আজ দুপুরে বিট ৬ পুলিশং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ হাসেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিট কর্মকর্তা উপপরিদর্শক খাইরুল রবিন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান আহমেদ নুর, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এইচ এম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
জানা যায়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে এসংক্রান্ত একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশের ৬৪০টি থানা এলাকায় শুরু হয়েছে বিট পুলিশিং কার্যক্রম। বিট পুলিশিংয়ের মূল ধারণা হচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারাই সেবা নিয়ে যাবেন মানুষের কাছে। তবে মামলাসহ কিছু আইনগত বিষয়ে থানায় আসতে হবে। বর্তমান করোনার পরিস্থিতিতে চরম বিপদে না পড়লে মানুষ থানামুখী হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ অবস্থায় বিট পুলিশিং চালুর সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গ্রামাঞ্চলে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং শহরের মহল্লাগুলোকে বিটে বিভক্ত করে একজন উপ-পুলিশ পরিদর্শককে (এসআই) এর দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে । দায়িত্বপ্রাপ্ত এ পুলিশ কর্মকর্তারাই এলাকার আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ রাখবেন ও প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেবেন। উন্নত দেশগুলোর আদলে এলাকাভিত্তিক বিট ভাগ করে পুলিশিং কার্যক্রমের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধানে (পিআরবি) উল্লেখ রয়েছে। ২০১০ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) প্রথমবারের মতো বিট পুলিশিং চালু হয়। এরপর সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশালসহ কিছু ইউনিটে কার্যক্রম চললেও দেশব্যাপী পরিচালনার নির্দেশনা ছিল না। সংশ্লিষ্ট বলছেন, বেনজীর আহমেদ আইজিপির দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সারা দেশে বিট পুলিশিং ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। গত ১৬ জুন এক ভিডিও বার্তায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের যে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন তিনি, এর মধ্যে বিট পুলিশিং অন্যতম। পরে ২১ জুন রাতে আরেকটি ভিডিও কনফারেন্সে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে ইউনিট প্রধানদের নির্দেশনা দেন আইজিপি। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে বিট পুলিশিংয়ের সাফল্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব এলাকায় বিট পুলিশিং সফল হয়েছে। আমরা সারা দেশে বিট পুলিশিং চালু করতে চাই, মানুষের কাছে যেতে চাই, মানুষের হৃদয় জয় করতে চাই।’
পুলিশের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশের কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলেও এ কমিটি নিয়ে বিভিন্ন সময় সমালোচনা হয়েছে। যাদের দুর্নাম রয়েছে এমন লোকও কমিউনিটি পুলিশের নেতা হয়েছেন, নেতা হয়েছেন রাজনৈতিক দলের বিতর্কিত ব্যক্তিরাও। আর কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে জনগণ ও পুলিশের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের কথা বলা হলেও অনেক সময়ই ঝামেলা এড়াতে লোকজন পুলিশের কাছে যায় না। এসব কারণে আশানুরূপ ফল আনতে পারেনি কমিউনিটি পুলিশিং।
এ কর্মকর্তা মনে করেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ চরম বিপদে না পড়লে থানায় আসবে না। তাই এখন বিট পুলিশিং চালু করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি