নিউজটি শেয়ার করুন

পবিত্র কাবা বন্ধ হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়

সম্প্রতি সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র কাবা শরীফের তাওয়াফ বন্ধ নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ কেউ বলছেন তাওয়াফ বন্ধ হয়নি। আবার কেউ বলছেন কেয়ামত বোধহয় সন্নিকটে। আবার কেউ কেউ দোষ দিচ্ছেন সৌদি সরকারকেই। তবে পবিত্র কাবায় সাময়িকভাবে তাওয়াফ বন্ধ রয়েছে। ৫ মার্চ সৌদি গ্যাজেটের সুত্র অনুযায়ী পবিত্র কাবার চারপাশে প্রদক্ষিণের অঞ্চল (যেটাকে বলা হয় মাতাফ) এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চল (যেটাকে বলা হয় মাসা) যা এই ওমরাহ স্থগিতের সময়ে বন্ধ থাকবে। এছাড়া সেখানে আরো বলা হয়েছে কেবলমাত্র গ্র্যান্ড মসজিদের ভিতরেই নামাজের অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে এর আগেও বেশ কয়েকবার কাবাঘর বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ ঘটনাটা ঘটেছিল ১৯৭৯ সালে, যখন জুহাইমান আল-ওতাইবি তার এক শিষ্যকে ইমাম মাহদী দাবি করে কাবা ঘর দখল করে নেয়। সে সময় প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কাবা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ছিল। কোনো তাওয়াফ অনুষ্ঠিত হয়নি।

এর আগে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সময় পরপর দুইবার কাবার উপর আক্রমণ করা হয়েছিল। একবার আগুনে এবং আরেকবার পাথরের আঘাতে কাবা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সম্পূর্ণ নতুন করে আবার কাবাঘর নির্মাণ করতে হয়েছিল।

এছাড়া মদিনায় মসজিদে নববীতে আল-রাওদা আল শরীফ সহ পুরাতন মসজিদটি ওমরাহ পালনকারী এবং মসজিদে আগত দর্শকদের জন্য ওমরাহ স্থগিতের সময় বন্ধ থাকবে।

সৌদি মুখপাত্র জানিয়েছেন দুটি পবিত্র মসজিদ এশার নামাজের এক ঘন্টা পরে বন্ধ হয়ে ফজরের নামাজের এক ঘন্টা আগে আবার খোলা হবে। যা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জীবাণুমুক্তকরণের কাজকে আরও সহজ করবে।

করোনা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি সৌদি নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্যও ওমরাহ হজ পালন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। করোনাভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।