নিউজটি শেয়ার করুন

পরীমনি কতো বড় সমস্যা!

আলমগীর অপু
পরীমনি যেদিন খুব কান্না করে করে বলছিলেন, আমাকে জোর করে মদ খাওয়াইছিলেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। আমি সেদিন কেন জানি সন্দেহ করেছিলাম। তুমি যদি মদ না খাও তাহলে বার-এ ঢুকলে কেন? মদের বারে মধ্যরাতে যাওয়ার দরকার কি ছিল?
কিন্তু তার অভিনয় দক্ষতায় শেষ পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ী নাসিরুদ্দিনকে জেলখানায় যেতে হয়েছিল। আমি তখনই এই ঘটনার একটা প্রতিক্রিয়া হবে কিংবা পরীমনি এই ঘটনায় একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করেছিলাম। পরে পরিমনির ঘরে যে পরিমাণ মদের বোতল পাওয়া গেছে, তা হয়তো পুরোটা সত্য নাও হতে পারে। তার আইনজীবীও বলেছেন-অধিকাংশ মদের বোতল খালি। কিন্তু কয়েকটা মদের বোতল যে ছিল এটা সত্য ধরে নিতে হবে।
আমাদের দেশে মদ খাওয়া নিয়ে মাঝেমধ্যে যা হয়, তা আসলে রীতিমত অবাক করে দেয়। পরে ডিএমপি কমিশনার যে কথাটি বললেন, ১৮ বছরের উপরে যে কোন নারী পুরুষ যদি কারো ক্ষতি না করে একমত হয়ে যে কোন ধরনের মেলামেশা করে, সেক্ষেত্রে আইনগতভাবে আটক করার কঠোর কোন আইন নেই দেশে। এই সংবাদটি আমরা প্রচার করেছিলাম। সেখানে আমার একজন দর্শক একটি কমেন্ট করেছেন। ওই নিউজের কমেন্ট আমার খুব ভাল লেগেছে।
দর্শক লিখেছেন যদি ১৮ বছরের কোন নারী পুরুষ নিজেদের ইচ্ছেমত অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তা যদি অপরাধ না হয়, তাহলে আবাসিক হোটেলে আপনাদের পুলিশ কেন অভিযানের নামে মানুষ ধরে নিয়ে যায়? তাদেরকে কেন অপমান করে? প্রশ্নটি আমাকে খুব ভাবিয়েছে।
এই লকডাউন-এর সময় সারাবিশ্বে উন্নত দেশগুলোতে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য নাগরিকদেরকে মোটা অংকের সরকারি ভাতা দেয়া হয়েছে। তোমরা ঘরে থাকো, মদ কিনতে পারো কম টাকায়, উপহার কিনতে পারো, বাচ্চাদের জন্য খেলনা কিনতে পারো ইচ্ছে মতো। কেনাকাটা করতে পারো। আমাদের দেশে সারাক্ষণ সরকার থেকে বলা হচ্ছিলো, তোমরা বাসায় থাকো লকডাউনে। এখন বাইরে না গেলে, কোথাও যদি ঘুরতে না যায়, তাহলে শুধু ঘরে বসে বসে ঘুমাতে যাওয়া কি বৈজ্ঞানিক? কোন কিছু না করে কি এমনিতে ঘুম আসে? অনেক ডাক্তাররাও স্বীকার করেছেন- এই লকডাউনে শুধু ঘুমের ওষুধ বিক্রি হয়েছে প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশে।
আবার ডাক্তাররা বলেন, যারা মদ খায় তারা কিন্তু ভালো ঘুমাতে পারে। এই কারণে অনেক ডাক্তার মদ খাওয়ার জন্য প্রেসক্রাইব করে থাকেন। কিন্তু আমাদের এই সমাজে বিশেষ করে বাংলাদেশে মদ খাওয়াটাকে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে দেখা শুরু হয়েছ। তাতে যারা খায় তারা খেয়েদেয়েও স্বীকার করেনা, সত্য কথা বলে না বরং স্রোতের সাথে গা বিলিয়ে দেয়। যারা মদ খায়, সেটা তো আর কম টাকার বিষয় না। তবে এক্ষেত্রে অনেকেই প্রশ্ন করেন ১৮ বছরের উপরে কোন ব্যক্তি যদি নিজের টাকায় মদ খেতে চায় তাহলে আইন কেন বাধা হবে? এগুলো অবশ্য আমাদের কাছে সাংবাদিক হিসেবে মেসেঞ্জারে অনেকেই এই প্রশ্নগুলো করেন। কিন্তু আমার কাছে উত্তর দেবার কি আছে। শুধু পড়ি আর চিন্তা করি। এর উত্তর দেওয়ার সময় কি এখন আছে?
চলুন পরীমনি প্রসঙ্গে আবার চলে যাই। পরীমনিকে আটকের পর আমার মনে হয়েছিল, তাকে যেভাবে আটক করা হয়েছে এইভাবে আটক না করলেও পারতো। পরীমনিকে ডাক দিলে র‌্যাব-এর কাছে চলে যেতে বাধ্য হতো। তাকে যেভাবে পুলিশি প্রহরায় আদালতে নেয়া হলো, এটা অনেকের মতো আমারও দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। এত পুলিশ এই একটি মেয়েকে পাহারা দেওয়ার কি দরকার ছিল? সেকি জঙ্গি না কোনো সন্ত্রাসী? তার কি কোন বাহিনী আছে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে? এই প্রশ্নটির উত্তর কার কাছে পাবো? পরীমনিতো কোন মসজিদের ইমাম নয়। তাকে সবাই চিনে একজন নায়িকা হিসেবে। অতএব তাঁর কাছ থেকে মদের বোতল, রাতের রঙ্গমঞ্চ কিংবা বিনোদন আদান-প্রদান করা নতুন কিছু নয়, অবাক করার মতো ব্যতিক্রমও কিছু নয়। মদ পাওয়া নিয়ে আকাশ থেকে পড়ার কোন বিষয়ও নয়।
আমাদের দেশে নীতিনির্ধারকরা প্রায় বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের কথা। কিন্তু বিদেশীরা শুধু আপনার টাকার জন্য কোন দেশে যায় না। সেখানে তার নিরাপত্তা, তার বন্ধুত্ব, তার চলাফেরা, তার বিনোদন সব কিছুর সমন্বয় ঘটলে তখন তারা সে দেশে যেতে আগ্রহী হয়। এটা তাদের সহজাত বিষয় যে সারাদিন কাজের পর তারা সন্ধ্যার সময়টা খুব আনন্দ সহকারে কাটাতে চায়। বন্ধুবান্ধব নিয়ে অবশ্যই সঙ্গে মদ বিয়ার থাকতে হবে। কিন্তু বিশ্বমিডিয়ায় যখন বাংলাদেশে একজন সুপারস্টার মদ রাখার অপরাধে বিশাল এক বাহিনীর হাতে আটকের ছবি দেখেন কিংবা এই সংবাদটি অনলাইনে সারা জীবন থেকে যাবে, গুগলের সার্চ করলেই বাংলাদেশে মদ খাওয়া কতটুকু নিরাপদ সে বিষয়ে তারা সন্দিহান হবে। সমাজের অনেক উঁচু তলার মানুষ ভালই মদ খায়। তারা আবার মদ খাওয়াদেরকে গালাগালি করতে দেখি। বিষয়টি আসলে দেশের মানুষের সাথে প্রতারণামূলক। তারা নিজেরা খাবে কিন্তু অন্যের বেলায় বিচারক সাজে। এই মানসিকতা থেকে উত্তরণের উপায় কি? সদা সত্য কথা বলা নাকি ইনিয়ে বিনিয়ে এড়িয়ে চলা ? বেশিরভাগ শেষের অংশই করে।
একজন বিদেশী যখন একজন ব্যবসায়ীর ঘরে যায় তারা কোনভাবে আশা করে না যে তাকে ধর্মীয় কোন বই দেখিয়ে রেওয়াজ দেখিয়ে অভ্যর্থনা জানাবে। কিংবা আমাদের দেশে পোলাও মুরগি দেখিয়ে লোভ লাগাবে। বিদেশীদের আকর্ষণের অন্যতম উপায় হচ্ছে যতো বেশি উচ্চ বিলাসী মদের ব্রান্ড তার সামনে শোঅফ করা যায়, নাচগানের ব্যবস্থা করা যায়, তাতেই তারা বিপুল অংকের টাকা খরচ করতে রাজি হয়। তা বুঝতে পেরেছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো। সে কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই ইউরোপ আমেরিকানদের ধর্মের বিরুদ্ধে হলেও অধার্মিক অনেক সুবিধা নিশ্চিত করেছে। ফলে মরুর বুকে আজ ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তারা বিদেশীদেরকে দেশে সুযোগ করে দিয়ে নিজেরা আবার ইউরোপ আমেরিকায় আনন্দ করতে চলে যায়। আমেরিকার ক্যাসিনো গুলোতে আরবের শেখরা বাজারের থলের মতো বিশাল সুটকেস নিয়ে জুয়া খেলতে যায়। সঙ্গে থাকে অন্যসব কিছু। বাংলাদেশী যারা ইউরোপ আমেরিকায় থাকেন তারা প্রায়ই এই কথাগুলো বলেন এবং আমিও দেখেছি বড় বড় দেশগুলোতে।
এখন কথা হচ্ছে, পরীমনিকে ধ্বংস করা যাবে নিমিষেই। কিন্তু আরেকটা চলচ্চিত্রের জন্য পরীমনি কি তুলতে পারবে ধ্বংসকারীরা? তাকে সতর্ক করা যেতো, মামলার ভয় লাগানো যেতো কিন্তু এতো কিছুর কি দরকার ছিলো? মদ খাওয়া মানুষ গুলো মাদক নিতে পারে না বলে অনেকেই বলে। সত্য মিথ্যা জানি না। বলা হচ্ছে পরীমনির মদের লাইসেন্স আছে কিন্তু রিনিউ হয়নি। তো লকডাউনে সরকারি অফিস তো বন্ধই ছিলো। রিনিউ করবে কিভাবে?
এই পরীমনির কোন পুরো সিনেমা আমি দেখিনি। কিন্তু বাংলার কোটি কোটি মানুষতো দেখে। তাদের প্রিয় নায়িকার জন্য এই লেখা।
আলমগীর অপু : প্রধান সম্পাদক, সিপ্লাসটিভি ও সিপ্লাসবিডি ডট নেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here