নিউজটি শেয়ার করুন

পরীর পাহাড় কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের আগমন উপলক্ষ্যে নতুন সাজে সাজছে পরীর পাহাড়
ছবি: সিপ্লাসবিডি.নেট

মোঃ নেজাম উদ্দীন,আদালত প্রতিবেদক:  চট্টগ্রাম পরীর পাহাড়ে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। পরিদর্শন শেষে  আইনজীবীদের  ভবন নির্মাণে চলমান দ্বন্দ্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরীর পাহাড় কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় ,চট্টগ্রামবাসীর অমঙ্গল হয় এমন কিছু করবে না সরকার।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পরীর পাহাড় পরিদর্শন শেষে আইনজীবীদের ভবন নির্মাণে আইনজীবী-জেলা প্রশাসনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর  মুখ্য সচিব।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালেই চট্টগ্রামে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস। ঐদিন মীরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প নগরসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন তিনি। গত শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বন্দরের বে-টর্মিনাল, কাট্টলী মৌজায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘরের জন্য প্রস্তাবিত স্থান এবং চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক  কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।  আজ শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চান্দগাঁও এলাকাধীন কালুরঘাট মৌজায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়সহ সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনের জন্য প্রস্তাবিত ভূমি এবং পরীর পাহাড়ে থাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয় পরির্দশন করেন তিনি।

পরীর পাহাড় পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, চট্টগ্রামের জনগণের উপকারের জন্য যা যা করা দরকার তা করা হবে, সরকার জনগণের উপকার হয় না এমন কিছু করেন না। এই নিয়ে এত টানা হেঁচড়া করার কিছু নেই। পরীর পাহাড় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার কারও নিজস্ব সম্পত্তি নয়, বাংলাদেশের সম্পত্তি। আইনজীবীদের নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মুসলিম হাই স্কুলের ছাত্র ছিলাম, তখন দেখতাম পরীর পাহাড় থেকে নামার জন্য খোলা জায়গা ছিল, এখন তা নাই, আইনজীবীরা কি মঙ্গল গ্রহ থেকে আসছে নাকি। জেলা প্রশাসক বা অন্য কারও বক্তব্য নেওয়া দরকার নাই, চট্টগ্রাম বাসীর জন্য যেটা ভাল আর মঙ্গলের সরকার সেটাই করবেন। তা নিয়ে এত টানা-হেঁচড়ার কোন দরকার নাই।

মুলত: পরীর পাহাড়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী ভবন’ ও ‘একুশে আইনজীবী ভবন’ নামক দুইটি ১২তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে এবং ৬০০টি চেম্বার বরাদ্দের জন্য প্রচার করা হলে তার বিরুদ্ধে উক্ত আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণে বাধা স্বরুপ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশা্সনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রীপরিষদ বরাবরে জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রেরিত চিঠির  ভিত্তিতে এবং আগে থেকে সংগৃহীত গোপন রিপোর্ট এর ভিত্তিতে মন্ত্রী পরিষদের এই প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেন বলে  জানা যায়। এই প্রস্তাবনা অনুমোদন নিতে জেলা প্রশাসন মন্ত্রী পরিষদ এবং প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝানো হয়েছে দাবী  করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল, উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে ভুল বুঝানো হয়েছে বলেও দাবী করেন তারা।

তারা বলেন আইনজীবী সমিতি কোন অন্যায় করে নাই। সরকারী অনুমোদন নিয়ে  ভবন নির্মান করেছেন,  এ ব্যাপারে সংঘাতে না জড়িয়ে তারা আইনী ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী সমিতির নেতারা। পরে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে লিজ দলিলেল শর্ত লংঘনের অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এর পরে মন্ত্রী পরিষদের নিদের্শ মোতাবেক গত ১৮ সেপ্টেম্বর চটগ্রামের পরীর পাহাড় পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল। পরিদর্শন শেষে দলটি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচ এম জিয়া উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে ছয়টি মতামতও দেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর। কয়েকদিন আগে তা ঢাকায় পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর শাখা । পরীর পাহাড় ও পরীর পাহাড়ে থাকা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রী ঐ মুখ্য সচিব। পরিদর্শন শেষে পরীর পাহাড়ে চলমান দ্বন্দ্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এর আগে গত শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পরীর পাহাড়ের চলমান দ্বন্দ্ব বিষয়ে পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ছাড়াও সরকারের তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আসেন বলে জানা গেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সুত্রে। তিন কর্মকর্তাই চট্টগ্রামের সম্প্রতি আলোচনায় থাকা দৃষ্টিদন্দন পরীর পাহাড়ের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন।

পরীর পাহাড় পরিদর্শনে আসা ঐ তিন কর্মকর্তা হলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) জাবেদ আহমেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here