সিপ্লাস ডেস্ক: মাগুরায় পর্নোগ্রাফির শিকার এক তরুণীর পরিচয়ে প্রতীকী নাম ব্যবহার করে রায় দিয়েছে আদালত।
সোমবার বিকালে মাগুরার দেশের আদালতের দেওয়া এ রায় দেশের কোনো রায়ে বিচারপ্রার্থীর প্রতীকী নামের ব্যবহার এটিই ‘প্রথম’ বলছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।
এ মামলায় মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এ মামালার আসামিকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
জরিমানার এ টাকা ঘটনার শিকার তরুণীকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বিচারক বলে আইনজীবীরা জানান।
সাজাপ্রাপ্ত যুবায়ের হোসেন মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের পুলুম গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে।
আপত্তিকর ছবি সংরক্ষণ এবং প্রচারের অভিযোগে কলেজ পড়ুয়া এক মেয়ে ২০১৭ সালে এ মামলা করেন। এটির রায়ে বিচারক বাদীর পরিচয়ে ছদ্মনাম নাম ‘কল্প’ উল্লেখ করেন।
এ রায়কে ‘যুগান্তকারী; উল্লেখ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদা সিদ্দিকী বলেন, “বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এ ধরণের রায়ের কোনো নজির নাই।
বিচারক ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ছদ্মনাম ‘নির্ভয়া’র একটি মামলা এবং ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই আসামির প্রকৃত নামের পরিবর্তে ‘এন ওয়ান’ এবং ‘এইচ ওয়ান’ অবিহিত করে রায় প্রদানের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এই রায়ে বাদীর ছদ্মনাম ব্যবহার করেন বিচারক বলেন তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শফিকুজ্জামান বাচ্চু বলেন,“ব্রিটেন আইন করে ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ধর্ষণসহ যৌন অপরাধে ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের দেশেও ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ নিষিদ্ধ। কিন্তু তা কেউ মানছে, কেউ মানছে না। এ অবস্থায় ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ না করে রায় প্রদানের এ ঘটনা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের হোসেন দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় ‘কল্প’র সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে ঘনিষ্টতার সুযোগে মেয়েটির ব্যক্তিগত কিছু ছবি তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে কল্প তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এ অবস্থায় ধারণকৃত এসব ছবি মুছে ফেলার কথা বলে ফের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালান জুবায়ের। তাতে রাজি না হওয়ায় আসামি মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ছবিগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করেন।
এ অবস্থায় কল্প ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট থানায় বিচার চেয়ে মামলা করেন।
এর আগে বিচারক জিয়াউর রহমান তিনটি মাদক মামলার রায়ে প্রচলিত কারাদণ্ডের পরিবর্তে গাছ লাগানো এবং মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ার মতো ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছিলেন।

