গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজানে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে তড়িতাহত হয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)’র নারায়ণ কর (৫১) নামের এক নিরাপত্তা প্রহরীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১০ টার দিকে ইমাম গাজ্জালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গেইট সম্মুখে চুয়েট প্রাচীরের সাথে লাগোয়া বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তড়িতাহত হয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
চুয়েট প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নিহত নারায়ণ কর চুয়েটের শেখ রাসেল হলের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মাস্টার রোলে চাকরি করলেও গত গত ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ তার চাকরি স্থায়িত্ব হয়।
তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বুড়ির দোকান এলাকার তালুকদার পাড়ার মৃত জ্যোতিন্দ্র করের পুত্র।
চুয়েট স্টাফ এসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক মাসুদ হোসেন রুবেল বলেন, নিহত নারায়ণ কর আমাদের দীর্ঘসময়ের একজন সহকর্মী। তিনি চাকরি পাশাপাশি খালি জায়গায় সবজি আবাদ করতেন। আজ (বুধবার) সকালে তিনি সীমানা প্রাচীরের বাইরে ঝুলিয়ে থাকা ধুন্দুল তোলার জন্য গেলে সেখানে প্রাচীরের লগোয়া বৈদ্যুতিক খুঁটির আর্থিংয়ে তড়িতাহত হয়ে নিহত হন। কিছুদিন পূর্বেও আর্থিং হতে আগুন লেগে খুঁটির গোড়া পুড়ে গর্ত হয়ে যায়। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। তাদের গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবী করছি। ন
হতের পুত্র রাঙ্গুনিয়া সেলিনা কাদের কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র অজয় কর বলেন, আমার বাবা সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়। আমি কলেজে চলে আসি। কলেজে থাকা অবস্থায় এই দুর্ঘটনার খবর শুনি। আমরা দুই ভাইবোন। আমার বাবাই আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি এই হত্যার বিচার দাবী করছি।
চুয়েটের রেজিস্ট্রার (অতিঃ) ড. অধ্যাপক ফারুক-উজ জামান বলেন, পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যুটা খুবই দুঃখজনক। যেকোন জীবনই অতি মূল্যবান। তিনি আমাদের দীর্ঘদিনের কর্মচারী। তিনি নিষ্ঠার সাথে কাজ করতেন। তার মৃত্যুতে আমরা চুয়েট পরিবার খুবই মর্মাহত। এই ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব তারা যেন সচেষ্ট থাকে।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জি.এম প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, ঘটনাটি আমরা জানার পর ঘটনাস্থলে আমাদের কর্মকর্তা গিয়েছেন। চুয়েট কর্মচারী ধুন্দুল তুলতে গিয়ে খুঁটির আর্থিং ধরে টান দিলে তা ছিড়ে গিয়ে তড়িতাহত হয়ে মারা যান। এই ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কোন দায় নেই। তবে, আমরা তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
চুয়েট ফাঁড়ির ইনচার্জ অনুপম বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে প্রেরণ করেছি।








