নিউজটি শেয়ার করুন

পাওনা টাকা না পেয়ে শিশুকে অপহরণ, আটক অপহরণকারী

সিপ্লাস প্রতিবেদক: কোতোয়ালী থানাধীন নতুন রেলষ্টেশনের প্রবেশমুখে শিশু অপহরণকারী মোঃ শরীফ (৩৩)কে অপহৃত শিশুসহ আটক করা হয়েছে।

রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পৌনে চারটায় তাকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন, পিপিএম জানান,জনৈক রিনা আক্তার ও তার স্বামী জনৈক মোঃ জাহাঙ্গীর কক্সবাজার এলাকার রামু থানাধীন ফকিরাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে এবং পাশ্ববর্তী একটি আড়ং বেকারী নামক প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে।

আটককৃত মোঃ শরীফ (৩৩), পিতা-মোঃ বাবুল মিয়া, স্ত্রী-পারভীন বেগম, সাং-নারায়নপুর, ৭নং ওয়ার্ড, নবীনগর পৌরসভা, মাহতাব মিস্ত্রির বাড়ী, থানা-নবীনগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

ওসি আরও বলেন, তারা উভয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে। রিনা আক্তার এর স্বামী জনৈক মোঃ জাহাঙ্গীর আসামী মোঃ শরীফ (৩৩) নিকট থেকে বিগত ১ বছর পূর্বে ১ লাখ টাকা ধার হিসেবে নেয়। করোনাকালীন সময়ে কাজ করতে না পারায় বাদীর স্বামী আসামীর নিকট থেকে নেওয়া ধারের টাকা পরিশোধ করতে পারে নাই। আসামী পাওনা টাকা না পেয়ে বাদীর স্বামীকে কাজের ব্যবস্থা করার কথা বললে বাদীর স্বামী মোঃ জাহাঙ্গীর তাকে তাদের বাসা তথা ফকিরাবাজার এলাকায় রিক্সা চালানোর জন্য বলে।

আসামী বাদীর স্বামীর কথামতে সাড়ে ৩ মাস যাবৎ উক্ত স্থানে থেকে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। আসামী বাদীর ননদের স্বামী। প্রতিদিনের ন্যায় বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী গতকাল ৭ ফেব্রুয়ারি সকালবেলা চাকুরিতে চলে যায়। বাদী ও তার স্বামী কর্মস্থলে কাজ করাকালে সকাল অনুমান ১১টার সময় কক্সবাজার জেলার রামু থানাধীন ফকিরাবাজার এলাকার সুমনের ভাড়া বাসা হইতে আসামী বাদীর ছেলে জুনায়েদ (৩) কে আমার কাছে বেকারীতে আনার কথা বলিয়া নিয়ে যায়।

রিনা আক্তার এর মেয়ে ওই দিন সকাল অনুমান ১১টা ৩০ মিনিটের সময় রিনা আক্তার এর কাছে গিয়ে তার ভাই আছে কিনা জানতে চাইলে রিনা আক্তার ছেলে নাই বলে জানালে রিনা আক্তার এর মেয়ে তখনই আসামী কর্তৃক বাদীর ছেলেকে নেওয়ার কথা জানায়।

বাদী ঘটনার কথা জানতে পেরে তার মেয়ে সহ আশেপাশে ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করেও খুঁজে না পেয়ে আসামীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও আসামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ওই দিন বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটের সময় পুনরায় আসামীর মোবাইলে কল দিলে পুলিশ ফোন রিসিভ করে তার নাম এএসআই মোঃ জয়নাল আবেদীন বলে পরিচয় দেয়। পুলিশের সাথে কথা বলে জানতে পারি বাদীর ছেলে কোতোয়ালী থানাধীন নতুন রেলষ্টেশনের প্রবেশমুখে পুলিশের নিকট আছে।

এএসআই মোঃ জয়নাল আবেদীন উক্ত স্থানে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স সহ চেকপোস্ট ডিউটি করার সময় সন্দেহজনক ভাবে আসামীকে উক্ত স্থানে আসার কারন জিজ্ঞাসা করলে সে কোন সদোত্তর দিতে পারে নাই। আসামীর কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে আসামীকে ১ লক্ষ টাকার জন্য অপহরন করেছে বলে জানায়।

এরপর পুলিশ আসামী এবং ভিকটিম জুনায়েদ (৩) কে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে রিনা আক্তার ও তার স্বামী কক্সবাজার জেলার রামু থানাধীন ফকিরাবাজার এলাকা থেকে থানায় এসে তার ছেলে ও আসামীকে সনাক্তপূর্বক আসামীর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ ধারায় একটি মামলা রুজু হয় বলে জানান ওসি।