Site icon CPLUSBD.COM

কলার দাম আকাশ ছোঁয়া

মো মহিন উদ্দীন: ইফতারির অন্যান্য উপকরণের মতো কলার দামও এবার চড়া। আকার ভেদে এসব কলা সর্বনিম্ন ডজন প্রতি ১২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২২০ টাকা পর্যন্ত ডজন প্রতি কলা বিক্রি হচ্ছে বাংলা কলা। যা পুর্বে ছিল ডজন প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এবার চাহিদার তুলনায় কলার সরবরাহ কম দাবী ব্যবসায়ীদের।

জানা যায়, কলা অতি জনপ্রিয় একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। এ ফলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ভিটামিন এ বি সি এবং ক্যালসিয়াম,  লৌহ ও পর্যাপ্ত খাদ্যশক্তি রয়েছে।

কলা অন্ত্রের, মুখের ও ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে দেহকে রক্ষা করে। কলায় প্রচুর আঁশ রয়েছে। তাই পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং সহজে হজম হয় বলে রোগীর পথ্য হিসেবে কলা অতুলনীয়। নরম ও মিহি হওয়ার জন্য পেটের সমস্যায় খুবই উপকারী খাবার কলা। খুব বেশি পেট খারাপ রোগেও কলাই একমাত্র ফল যা নির্বিঘেœ খাওয়া যায়।

কলা অস্বস্তি কমিয়ে আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। অনেক দেশে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কলা ব্যবহার করা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের জ্বর হলে ওষুধের বদলে খাওয়ানো হয় কলা। থাইল্যান্ডে গর্ভস্থ সন্তানের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে কলা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। পেশি গঠনেও কলার কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্নভাবে কলা আমাদের রসনার স্বাদ মেটায়।

দুধভাতে পাকা কলার জুড়ি মেলা ভার। সাধারণত বেশির ভাগ মানুষ সদ্য পাকা কলা খেতে পছন্দ করেন। কলা অতিরিক্ত পেকে গেলে এর চামড়ায় কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। আর এ দাগের কারণে বেশির ভাগ সময় অতিরিক্ত পাকা কলা কেউ খেতে চান না।

কিন্তু কলা যখন অতিরিক্ত পেকে যায় এর অ্যান্টি অক্সিডেন্টের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত পাকা কলা খান, আর সুস্থ ও সুন্দর থাকুন।

কলা একদিকে পুষ্টিগুণে ভরপুর, অপরদিকে এর প্রচুর ঔষধি গুণও রয়েছে। গলার ঘায়ে, শুল্ক কাশিতে ও কিডনি রোগের ক্ষেত্রে পাকা কলা উপকারী। কলা থোড়ের রস কলেরা রোগীয় তৃষ্ণা নিবারণে ও রক্ত বমি রোধের জন্য উপকারী। কলার কন্দমূল ও কান্ড দূষিত রক্ত বিশুদ্ধকরণে সাহায্য করে। কাঁচা কলা (সিদ্ধ) সিফিলিসের চুলকানি ও পোড়া ঘায়ে প্রলেপের জন্য উপকারী।

রিয়াজউদ্দীন বাজার থেকে কলা কেনা প্রাইভেট কোম্পানির চাকুরীজীবি মাহাফুজ বলেন, বাংলা কলার এত দাম শুনে অবাক হয়ে গেলাম। যে কলা আমাদের গ্রামে প্রতি পিস ৫ থেকে ৭ টাকা আর শহরে সে কলা ১০ থেকে ১৫ টাকা। তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

নগরীর লালখান বাজার থেকে পাকা বাংলা কলা ক্রেতা হাসান ও শরীফ বলেন, কলা একদিকে পুষ্টিগুণে ভরপুর, অপরদিকে এর প্রচুর ঔষধি গুণও রয়েছে। তাই বাংলা কলার চড়া দাম হলেও কি করব খেতে তো হবে। এ রমজানে প্রতিদিন ইফতারীর খাবারের সাথে কলাও থাকে। তবে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই এ সব কলা কেনার।

খুচরা বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশিয় বাংলা পাকা কলার সরবরাহ কম। তাই অন্যান্য কলার তুলনায় বাংলা কলার দাম একটু বেশি। “প্রতি ডজন সাগর কলা ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, চাম্পা ৩০ থেকে ৫০ টাকা, শবরি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা এবং বাংলা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি করছি।”

ফিরিঙ্গী বাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর আলম সিপ্লাসকে বলেন,পাহাড়ে কলার চাষ কমে গেছে। তার মধ্যে লকডাউনের কারণে রাঙামাটি, রাজশাহী, চাপাইসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগে কলা আসলে এখন আসছে না। যার কারণে কলার দাম একটু বেশি। আগে গাড়ি ভাড়া ছিল ২০ হাজার টাকা। এখন সে ভাড়া দাড়িয়েছে ৪৬ হাজার টাকা। তাই কলার দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি।