চট্টগ্রাম নগরীতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাস ধর্মঘট শুরু হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
সোমবার সকাল থেকে নগরীর সড়ক গুলোতে বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার চলাচল না করায় অফিসগামী চাকুরীজীবী ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়েন।
নগরীর সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও চলছে টেম্পু অটোরিকসাসহ অন্যান্য গণ পরিবহণ।

ওয়াসার মোড়, নিউ মার্কেট, স্টেশন রোড, আন্দরকিল্লা, এনায়েত বাজার, কাজীর দেউরি, টাইগার পাস, আগ্রাবাদ ও জিইসি মোড়ে যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বাসের জন্য।
পরিবহণ শ্রমিক নেতা নুরুল হক সিপ্লাসকে জানান, রোববার ফিটনেস ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বাস চালানোর অপরাধে বাসের মালিক মোঃ মনির হোসেন (৩৫)কে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫দিনের কারাদণ্ড দেয়। একারণে সোমবার সকাল থেকে মালিকদের নির্দেশে বাস নামানো হয়নি।
তিনি বলেন এ বাস ধর্মঘটের সাথে শ্রমিকদের কোন সন্দেহ নেই।
ধর্মঘট প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, “ধর্মঘটের বিষয়ে আমাদের কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেই। তবে গতকাল রোববার বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেট একটি বাস ইউটার্ন করায় তার মালিক, চালাক ও হেলপারকে জরিমানা করেছে।”
এজন্য ভীত হয়ে গাড়ির মালিকরা বাস-মিনিবাসসহ অন্যান্য পরিবহন সকাল থেকে বের করছে না দাবি করে তিনি বলেন, “আমরাও বিভিন্ন সড়কে শহর এলাকার বাসের ইউটার্নের বিপক্ষে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানার বদলে মালিক, চালক ও হেলপারকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।”
বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধরনের পরিবহন মালিকরাই ভয়ে গাড়ি নামাচ্ছেন না।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে গণপরিবহন মালিকদের সাতটি সংগঠন রয়েছে। এগুলো হল- সিটি বাস-মিনিবাস ও হিউম্যান হলার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপ, সিটি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টলা পরিবহন, যাত্রীসেবা পরিবহন, মহানগর পরিবহন, কালুরঘাট মিনিবাস মালিক সমিতি ও লুসাই পরিবহন।
তবে সিটি বাস-মিনিবাস ও হিউম্যান হলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মিয়া বলেছেন, অঘোষিত এই ধর্মঘটের সাথে তারা নেই।
“অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য একটি পক্ষ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। পরিবহন মালিকদের একটি পক্ষ কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাস চালাচ্ছেন না।”
বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল হক রোববার দুপুরে নগরীর বহদ্দারহাটে একটি শহর এলাকার বাসকে ফিটনেস না থাকায় এবং ১০ নম্বর রুটের বাসটি যথাযথ গন্তব্যে না গিয়ে চান্দগাঁও থানার সামনে ঘুরিয়ে দেওয়ায় বাসের মালিক মনির হোসেনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এছাড়া বাসটির চালক শামীম উদ্দিন ও হেলপার মোহাম্মদ আলমগীরকে একমাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।








