পটিয়া প্রতিনিধি: পেঁপে ভালোবাসেন না এমন লোকের জুড়ি মেলা ভার। হোক কাঁচা বা পাকা। সবজি জাতীয় এ ফলের কদর রয়েছে দেশজুড়ে। পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ এ ফলের চাহিদাও ব্যাপক। পেঁপে চাষে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটায় অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবেও সাবলম্বী হচ্ছে অনেকে।
পটিয় পৌরসভার ৭ নং ওয়াডের বাহুলী এলাকার সিকদার পাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে মনজুর ইসলাম পেঁপে চাষ করে খুব অল্প সময়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে এলাকার মানুষের অনুকরণীয় পেঁপে চাষিতে পরিণত হয়েছেন।
মনজুর ইসলাম দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়াতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ পান। পড়ালেখার ইচ্ছে থাকলেও আর এগুতে পারেননি তিনি। দরিদ্র বাবার সংসারে অল্প বয়সেই কৃষিকাজের মাধ্যমে সংসারের হাল ধরেন। শ্রীমাই খালের পাশে উর্বর মাটির পাহাড়ের পাদদেশে তিনি নানা চাষাবাদের পাশাপাশি সাথী ফসলের চাষ করে কৃষি জীবন শুরু করলেও ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন পেঁপে চাষ করে।
৮ শতক জমিতে থাইল্যান্ডের রেডলেডি জাতের পেঁপে চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন মনজুর। স্থানীয় কৃষকদের কাছে তিনি এখন রোল মডেল। বাগানের প্রতিটা গাছে ৪০-৪৫ কেজি পেঁপের ভালো ফলন হয়েছে। মনজুর পেঁপে চাষ করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন সবজি জাতীয় এ ফলকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করতে।
কৃষক মনজুর ইসলাম জানান, তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী হতে পেঁপে চাষে পঞ্চাশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন । ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে এই অর্থ আয় করে তিনি পেঁপে চাষের প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরে তিনি ব্যাপক পরিসরে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি জমিটি লিজ নিয়ে বাগান করেন।
তিনি বলেন, আমি স্থানীয় উচ্চ জাত ও রেড লেডি জাতের পেঁপের চারা দিয়ে বাগান করেছি। তাছাড়া পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান সব সময় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছেন। জমি লিজ, চারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিকসহ নানা খরচ বাবদ এপর্যন্ত আমার ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু পেঁপে পরিপক্ক হওয়ার সময় এখন বিভিন্ন পাইকারেরা এসে দরদাম করতে শুরু করেছেন। প্রতিমন পেঁপে আমি দাম হাকাচ্ছি ২০০০ টাকা তারা বলছেন ১৬০০ টাকা। বর্তমানে বাগানে ৫০ মনের অধিক পেঁপে রয়েছেন বলে জানান মনজুর ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, আমার এলাকার অনেকেই এখন পেঁপে চাষে আগ্রহী। তাছাড়া এই ফল চাষে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। মাকড়শা ও ছত্রাক ছাড়া পেঁপে বাগানে আমি তেমন কোনো সমস্যা পাইনি। পেঁপে চাষে অর্থনৈতিকভাবে সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের অনেক বেকারের কর্মসংস্থান করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, মনজুর ইসলাম একজন আদর্শ কৃষক। পটিয়া উপজেলায় তিনি একজন বড় পেঁপে চাষি। আমরা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করছি। তাকে দেখে অনেক কৃষক এখন পেঁপে চাষে আগ্রহী। তাছাড়া পেঁপে বাগান করে খুব অল্প সময়েই লাভবান হওয়া যায়।








