সিপ্লাস প্রতিবেদক: কক্সবাজারের পেকুয়ায় ২১ দিনেও সরকারি বরাদ্দের ১৫ টন চালের কোন হদিস নেই। ত্রাণের চাল গায়েব নিয়ে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করলে শুরু হয় তোলপাড় । টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
এদিকে নিজ স্বাক্ষরে সেই চাল তোলা উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী লাপাত্তা।
শনিবার চাল গায়েবের খবরে অভিযান চালিয়ে বারবাকিয়া হোসনে আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ টন চাল জব্দ করা হয়েছে। সোমবার( ২৭ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে পেকুয়া থানা পুলিশের একটি টিম বিদ্যালয়ে গিয়ে এ চাল জব্দ করেন।
বিষয়টি পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম নিশ্চিত করেছেন।
তবে জব্দকৃত চাল, ত্রাণের চাল নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই মানবিক সহায়তা হিসেবে ৪০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতি মধ্যে ২৫ টন চাল বিলি করা হয়েছে।
বাকি চাল থেকে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, রিকশাচালক ও অসহায় দুঃস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য গত ৩১ মার্চ টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরীর অনুকূলে ১৫ টন চাল বরাদ্দ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা সাহাদাত। চাল উত্তোলনের পর আর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল আলীম জানান, বরাদ্দকৃত ১৫ টন চাল সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা।এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বিস্তারিত আমাকে কিছু বলিনি।
কথা বলতে টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তার ফোনে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।
এদিকে জব্দকৃত চালের বিষয়ে জানা যায়, পেকুয়ার বারবাকিয়া হোসনে আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জব্দকৃত চাল ওই স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দ করা। মাঠ ভরাট করতে ১১৭.৪২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করে মাঠ ভরাট কাজ চলছিল। ওই কাজের বিপরীতে বরাদ্দের চালের বেশিরভাগ ইতিমধ্যে উত্তোলন করা হয়। অবশিষ্ট ছিল ২৮ টন। এই চালের মধ্য থেকে ডিও নিয়ে ২৬ এপ্রিল ১৫ টন চাল উত্তোলন করে স্কুলে রাখা হয়।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প সভাপতি ছিলেন, শিলখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী। চাল গায়েবের সূত্র ধরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই দিন তাকে থানা হেফাজতে আনা হয়। চাল উত্তোলনের বৈধ কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ২৪ঘণ্টা পর রবিবার ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বরাদ্দকৃত চালের সাথে লোপাট হওয়া চালের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সাবেক কর্মকর্তা সুভ্রাত দাস থাকাকালীন সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা সাহাদাত ওই চালের বরাদ্দ দেয়।
চকরিয়া খাদ্য গুদাম থেকে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। চাল বিতরণের কোন মাস্টাররোল অদ্যবধি আমাদের কার্যালয়ে জমা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা সাহাদাত বলেন, চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সত্য। তবে চাল গায়েবের বিষয়টি আমি জানিনা।
তিনি আরো বলেন, সরকারি চালগুলো ইউএনও হিসাবে নিয়ম মেনে বরাদ্দ করেছি কিনা, মূলতঃ সেটাই তাঁর দেখার বিষয় ।
এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ছালামত উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে ছিলাম তবে ওই চাল বিতরণ হয়েছে কিনা আমি জানিনা আমাকে জানানো হয়নি।
খবর পেয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুল আফসার সকাল থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পেকুয়ায় ছিলেন। তিনি ত্রাণের চাল গায়েব এর সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক জনের সাথে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন স্থানীয় টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি আমি চেষ্টা করছি । ওনার সাথে কথা বলতে পারলেই বিস্তারিত বলতে পারবো। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্ত চলছে। সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








