নিউজটি শেয়ার করুন

পোস্টারে কাদের মির্জার ফাঁসি দাবি

সিপ্লাস ডেস্ক: নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ফাঁসির দাবিতে পোস্টারিং করা হয়েছে। শনিবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের দেয়াল, দোকানপাটে এ পোস্টার ছেঁয়ে গেছে।

পোস্টারে উল্লেখ করা হয়- সাংবাদিক মুজাক্কির এবং আলা উদ্দিন হত্যার নির্দেশদাতা খুনি মির্জার ফাঁসি চাই। প্রচারে- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।

স্থানীয়দের অভিমত, এ পোস্টারকে কেন্দ্র নতুন করে সহিংসতা সৃষ্টি হবে। এবার কাদের মির্জার পক্ষ থেকেও পোস্টারিং করা হবে। এতে পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যেকোনো ধরনের বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও সেটি মানছেন না আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপ। একে অপরকে আক্রমণ করে ফেসবুকে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

গত দেড় মাসে দু’পক্ষের সংঘাতে ২ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় ৪০ জন গ্রেপ্তার ও বেশ কয়েকটি মামলা হলেও নেতাদের মধ্যে কেউ কাউকে ছাড় দেয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে একে অপরকে আক্রমণ করে যাচ্ছেন। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে আসামি করে পাল্টাপাল্টি মামলা দিয়েছেন, দিচ্ছেন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। অবশ্য প্রশাসন কোনো পক্ষককেই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না।

সর্বশেষ ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয়। এতে উত্তেজনা দেখা দিলে প্রশাসন উভয় পক্ষের কর্মসূচি স্থগিত করেন। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের এ সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে দেখেছেন না।

বসুরহাট বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগকে বিষয়টি তদন্ত করে কেন্দ্রে রির্পোট পাঠানোর নির্দেশ দিলেও সেটির কোনো ধরণের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। দল থেকে কার্যত কারো বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে সমস্যার সমাধান না হয়ে জটিল আকার ধারণ করেছে।

তারা জানান, সংঘাত-সহিংসতার কারণে বসুরহাট বাজারে সাধারণ মানুষ সওদা করতে না এসে আশপাশের বাজারে যাচ্ছে। ফলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে কাদের মির্জা জেলা কমিটিকে তদন্ত দেয়ার বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তিনি বলছেন, জেলা কমিটির সভাপতি মেরুদণ্ডহীন প্রাণী আর সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর বিরদ্ধে গত তিন মাস যাবৎ চাকুরি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রবাজিসহ নানা অভিযোগ করে আসছেন।

তাই তাদেরকে দিয়ে তদন্ত হলে একপেশে হবে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।