জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া: পৌর নির্বাচনকে ঘিরে প্রাচার প্রচারণায় এখন মুখর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এই পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট হতে যাচ্ছে। আর এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
রাস্তা-ঘাট, হাটবাজার ও অলিগলি নির্বাচনের প্রার্থীদের পোস্টার আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকার জনপদ। প্রার্থীদের চলছে উঠান বৈঠক, আলোচনা সভা,মিছিল, গণসংযোগ ও মাইকিং। এ অবস্থায় সাধারণ ভোটাররা চান সব ধরনের সংঘাত এড়িয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে।

এ পৌরসভায় ভোটের মাঠে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থী। তারা হলেন— বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার (নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন শাহ (ধানের শীষ)।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ০৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৫১৯ জন এবং মহিলা ভোটার ১২ হাজার ২৭১ জন। এই পৌরসভায় মোট ১১টি ভোটকেন্দ্রের ৭০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সরেজমিন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে পুরোদমে শুরু করেছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা। জমজমাট হয়ে উঠছে এবারের নির্বাচনের মাঠ। এ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যেও বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।
প্রায় প্রতিদিনই দিনরাত সমান তালে প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শাহজাহান সিকদার।
তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সরব প্রচারণা চালালেও তার উল্টো চিত্র বিএনপি প্রার্থীর। প্রচারণার শুরুর দিন থেকে এখনও নির্বাচনী প্রচারণা চালায়নি ধানের শীষ প্রার্থী। এমনকি পৌরসভার কোথাও তার নির্বাচনী ব্যানার পোস্টার চোখে পড়েনি। তবে তাকে প্রচারণায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হেলাল উদ্দিন শাহ।
তিনি বলেন, ‘প্রচারণা না চালালেও অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
অন্যদিকে নির্বাচনি প্রচারণায় পিছিয়ে নেই কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। প্রতি ওয়ার্ডে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ায় তাদের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে অলিগলি। পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কে, মোড়ে, হাট-বাজারে প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত পোস্টার শোভা পাচ্ছে। টানানো হয়েছে ব্যানার।
রাত পোহালেই বিভিন্ন গান বাজনার মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীর সমর্থকরা। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটারদের দিয়ে যাচ্ছেন নানা রকমের প্রতিশ্রুতি।
চায়ের স্টল থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় চলছে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। তবে প্রার্থীরা যে যা-ই বলুক না কেন, আসন্ন পৌর নির্বাচন কেন্দ্র করে সাধারণ ভোটাররা ভাবছেন উন্নয়নের কথা।
পৌর এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং নাগরিক সুবিধা যাদের কাছ থেকে পাবেন, এবারের নির্বাচনে এমন প্রার্থীকেই ভোট দেয়ার কথা ভাবছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত বর্তমান মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার বলেন, ‘ পৌরসভাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, হাট-বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, পৌর এলাকায় সড়কবাতি, পানি সরবরাহ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, ড্রেন নির্মাণসহ নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করছি। যতটুকুই কাজ করেছি সবটুকুই জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া। আবারও নির্বাচিত হলে উন্নয়নের পাশাপাশি পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নিতকরণ এবং দেশের একটি মডেল পৌরসভায় রূপ দিতে কাজ করে যাবো।’
পৌরসভার সাধারণ ভোটাররা বলছেন, পৌরসভার উন্নয়নে যিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবে এবং গরিব-দু:খী মানুষের পাশে থাকবে এবং সর্বদাই কাজেকর্মে পাশে পাবো তাকে আমরা ভোট দেয়ার কথা ভাবছি। এদিকে, ভোটারদের চাহিদা অনুযায়ী পৌরসভার সকল নাগরিকদের সাধারণ সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতির কথা দিয়ে ভোট চাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।








