সিপ্লাস প্রতিবেদক: প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম ও তাপদাহে পুড়ছে সারাদেশ। সূর্যের প্রচন্ড তাপ ও গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ। সঙ্গে প্রাণীকূলও একটু পানি আর ছায়ার জন্য হাসফাঁস করছে। এরই মাঝে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। হিটস্ট্রোকের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রচণ্ড গরমে মানুষ শীতল ও তৃঞ্চা মেঠাতে ‘শরবত ও পান্তার সঙ্গে পুকুরের দূষিত পানি খেয়ে মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে’। প্রতিবছর এই সময়ে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা একটু বাড়ে। তবে এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়।
রাঙ্গুনিয়া: অতিরিক্ত গরম ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙ্গুনিয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত ৫ দিনে রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত ২৭০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।
প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ‘হাসপাতালে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি হলেও কয়েদিন ধরে ডায়রিয়া ও পেটব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। করোনা রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষে শয্যা থাকায় সাধারণ ওয়ার্ডে একটু শয্যা সংকট রয়েছে তাই কিছু রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ফাহিম বলেন, ‘করোনা রোগীর সাথে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ একটু বেশি। ডায়রিয়া হলে খাবার স্যালাইন খেতে হবে, প্রচুর পানি ও স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।’
বোয়ালখালী: বোয়ালখালীতে প্রতিদিন তীব্র ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সসহ সেবাদাতারা।
অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে হাসপাতালের করিডোরে শয্যা বিছিয়ে সামাল দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতালে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে রোগীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ভ্যাপসা গরমে ফ্যানবিহীন একাধিক করিডোরে স্থান নিয়েছেন অন্তত ২৫ জনের অধিক রোগী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিল্লুর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহে ভর্তি হওয়া রোগীদের ৯০ শতাংশ ডায়রিয়াসহ নানান পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। রোগীর চাপ সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। বোয়ালখালীতে ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকট, তীব্র গরম, রাস্তা ও হোটেলের বাসি-পঁচা ও অপরিষ্কার খাবার থেকে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। তবে হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি না থাকলেও পরিচ্ছন্ন কর্মীর অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত এই কর্মকর্তা।
আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো: লায়ন সৈয়দ মো: মোরশেদ হোসেন সিপ্লাসকে বলেন, গরমে অপরিষ্কার খাবার থেকে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। তবে এখনও আমাদের হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর তেমন চাপ নেই।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ( মেডিসিন) ডা: আব্দুর রউফ সিপ্লাসকে বলেন, প্রচণ্ড গরমে পানি শুন্যতা দেখা দেয়। যার ফলে ডায়রিয়ার প্রকোপটা বেড়ে যায়। তীব্র গরম, রাস্তা ও হোটেলের বাসি-পঁচা ও অপরিষ্কার খাবার থেকে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। রোদের মধ্যে বেশিক্ষণ কাজ করলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। প্রচুর পরিমাণের বিশুদ্ধ পানি খেতে হবে। একটানা গরমে থাকা যাবে না। প্রচুর পরিমাণে স্যালাইন খেতে হবে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সিপ্লাসকে বলেন, গরমের কারণে গ্রামগঞ্জে পুকুর, খালবিল শুকিয়ে যায়। এমনকি নলকূপের পানিও সংকট দেখা দেয়। ফলে বিভিন্ন ময়লা আর্বজনার দুষিত বর্জ্য পানিতে মিশে যায়। এরপর তারা সে পানি খাওয়া দাওয়া, রান্না বান্না ও গোসল করে। এতে ডায়রিয়া,টায়ফয়েট, বমি,পেট ব্যথা দেখা দেয়। তাই বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। গতকাল রবিবার ( ২৩ মে) পর্যন্ত চট্টগ্রামে প্রায় ৬ হাজার ডায়রিয়া রোগী আক্রান্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ডায়রিয়া রোগে মৃত্যু হয়নি। যে সব উপজেলায় ডায়রিয়া রোগের বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সে সব উপজেলায় মেডিকেল টিম কাজ করছে। যদি ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় কোন সমস্যা হবে না। কারণ পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা মজুদ রয়েছে।








