সিপ্লাস প্রতিবেদক: কেটে গেছে ২০ বছর। সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর একবারও হয়নি সম্মেলন। সেই চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রথম সম্মেলনের মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল গত ১৯ জুন। সকাল ১০টায় নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন (ভার্চুয়াল)।
কিন্তু সে সম্মেলন থেকে ঘোষিত হয়নি নতুন কমিটি। অনেকেই হতে চান সভাপতি সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় নেতৃত্ব সমঝোতায় আসতে না পারায় আগ্রহীদের তালিকা নিয়ে ঢাকায় ফিরে যান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পরদিন কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও তিন মাসেও তা হয়নি। এ অবস্থায় অধীর অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে চলতি মাসেই চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।
এদিকে কমিটিতে নিজের নাম দেখতে নেতাদের মধ্যে চলছে শীতল লড়াই। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা করে নিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ৬৩১ নেতা।
অনেক নেতার ভাষ্য, কমিটিতে পদ পেতে এত বেশি আবেদন জমা পড়ার নজির এই প্রথম। আবেদনের স্তূপই জানান দিচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নিয়ে মরণকামড় দিচ্ছেন নেতারা। নগর ও বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্তদের পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের সাবেক নেতারাসহ সরকারি দলের বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ ও পদহীন নেতারা এই তালিকায় রয়েছেন। কোনো কোনো নেতার অভিমত, দীর্ঘ ২০ বছর পর সম্মেলন ও নতুন কমিটি হওয়ার কারণেই পদপ্রত্যাশীর সংখ্যা এত বেশি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদেরই বেশি তোড়জোড়। তাঁদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু করোনা সংক্রমণ বাড়ার কারণে তা পিছিয়ে ২৯ মে নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই তারিখও পিছিয়ে ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হয় ভার্চুয়ালি সম্মেলন। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয়েছিল ২০০১ সালের জুলাইয়ে। এটি ছিল সংগঠনটির প্রথম কমিটি।
এদিকে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন পদে স্থান দিতে নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী নেতারা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশী মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন। এসব পদপ্রত্যাশীর জন্য নগরে সরকারি দল ও সংগঠনের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও দৌড়ঝাপ করছেন।
সব মিলিয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটিকে ঘিরে চট্টগ্রামে সরকারি দল ও সংগঠনের রাজনীতিতে নানা আলোচনা চলছে। অনেকের মুখে ফিরছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নিজেদের অনুসারীকে দেখতে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের অন্তত ছয়টি পক্ষ আদাজল খেয়ে নেমেছে!
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সরকারি সিটি কলেজের সাবেক ভিপি সাদেক হোসেন চৌধুরী পাপ্পু, নুরুল কবির ও আনোয়ারুল হোসেন বাপ্পী, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহ আলম ইমন, ইসলামিয়া কলেজের সাবেক সভাপতি আজিজউদ্দিন, লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন, মনোয়ার জাহান মনি, দেবাশীষ নাথ দেবু, দেলোয়ার হোসেন ফরহাদ, সুজিত দাশ, মিনহাজুল আবেদিন সায়েম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন পদপ্রত্যাশীর মধ্যে মোহাম্মদ ফয়সাল বাপ্পী, নুরুল আবছার, শেখ মহিউদ্দিন বাবুসহ আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ সিপ্লাসকে বলেন, চলতি মাসেই চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। নানা বিবেচনার কারণে কিছুটা সময় লেগেছে।
সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, আর মাত্র কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। এ মাসের মধ্যেই নতুন কমিটি ঘোষিত হবে। আশাকরি কমিটিতে সকলের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিদায়ী আহ্বায়ক এডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন, সকলে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে। যতো তাড়াতাড়ি কমিটি ঘোষণা হবে, ততই মঙ্গল। সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করা উচিত।
আরো পড়তে পারেন:

