সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাতে বাংলাদেশের মাননীয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আমিরাত বাংলাদেশ কমিউনিটির অন্যতম নেতা দুবাই বাংলাদেশ সমিতির আহবায়ক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ দুবাইয়ের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর।
একান্ত আলাপকালে এই এন আর বি নেতা জানান প্রধানমন্ত্রীর এবারের আমিরাত সফর অত্যন্ত ইতিবাচক। কেননা এক্সপোকে ঘিরে আমিরাতে যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে তা কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর বেশ গুরুত্ব বহন করে। তাছাড়া আমিরাতের উপ রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলাপ চারিতায় শ্রমিক ভিসার ব্যাপারে যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে তাতে বুঝাযায় বাংলাদেশের জন্য একটি কাঙ্খিত সুখবর অপেক্ষা করছে।
অধ্যাপক আব্দুস সবুর জানান বাংলাদেশ ও আমিরাতে বন্ধুত্বের সোপন তৈরী হয়েছে বহুদিন আগে। প্রয়াত মহান নেতা বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও আমিরাতের স্থপতি শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান সে বন্ধুত্বের চির বন্ধন তৈরী করে দিয়ে গেছেন আমাদের। কিন্তু আমরা আমাদের আচরণগত ত্রুটির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সে বন্ধুত্বের মধ্যে অভিমান তৈরী হয়েছিল। তাই বলে আমিরাতের শাসকরা আমাদের কখনো বিমাতা সূলব আচরণ করেনি। আমরা ১০ লক্ষ প্রবাসীদের তারিয়েদেয়নি তারা।মনে রাখতে হবে আমরা আমাদের অবস্থানকে সুন্দর ভাবে চলার মধ্য দিয়ে পুক্ত করে নিতে হবে। তিনি বলেন এক্সপো ২০২০ অতি সন্নিকটে। এই এক্সপোকে ঘিরে আমিরাতে আড়াই মিলিয়ন লোকের সমাগম হবে। বিশাল বানিজ্য সম্ভার তৈরী হবে এখানে।পৃথিবীর বানিজ্যিল প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিজনেস পলেসি নিয়ে হাজির হবে। তাহলে এখানে আমাদের পিছিয়ে থাকার কোন অবকাশ নাই। তাই প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
তিনি বলেন বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষে আমি এবং কমিউনিটি নেতা ইন্জিনিয়ার জাফর চৌধুরী মিলে এবার মাননীয় প্রধানমন্রীর সাথে সাক্ষাত করেছি।সাক্ষাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সন্তোষ প্রকাশ করে সফর সফল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন দীর্ঘ ৭ বছরের বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে উঠার সুযোগ তৈরী হয়েছে। আমরা আশাকরি আগামী এক্সপোর আগে আমাদের ভিসা জটিলতার নিরসন হবে।সে জন্য আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যাতে আমরা এমন কিছু করে না বসি যার প্রেক্ষিতে আমাদের সকল সাধনা বিফলে যেতে পারে।
তিনি বলেন, এবার এক্সপো ২০২০ এর পূর্বে বাংলাদেশীদের জন্য যদি বন্ধ ভিসা খুলা না হয় তাহলে আগামীতে বাংলাদেশের শ্রম বাজারের কদর কমে যেতে পারে এখানে ।কেননা আমিরাত সরকার যখন দেখবে তারা বাংলাদেশীদের উপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে পেরেছে তাহলে আমাদের শ্রমিকদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাবে এ অঞ্চলে। তাই সময় থাকতে তিনি বিষয়টির উপর গুরুত্ব বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।অধ্যাপক সবুর আরো বলেন নেপাল,কঙ্গু ও ভারতের শ্রমিকদের জন্য আমিরাত সরকার বর্তমানে আনলিমিটেড শ্রমিক ভিসা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ প্রাপ্যটুকু আমাদের পাওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন আমাদের শ্রমবাজারকেও ডেবেলাপ করতে হবে। আগামীতে আমাদের হসপিটালিটি সেক্টর ও আইটি সেক্টরে জনশক্তি পাঠানোর জন্য চিন্তা করতে হবে। এবারের এক্সপোকে সামনে রেখে আমাদের এ দুটি সেক্টরে জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ আছে মাত্র। বাকী সেক্টর গুলোতে অন্যদেশের শ্রমিকরা ইতিমধ্যে তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছে।
তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিসার ব্যাপারে এবারের সফরে কথা বলেছেন। এবার কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্ব বাকী কাজ সম্পাদন করা।

