চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ এলাকার প্রবর্তক পাহাড়ের জায়গা দখল করে রাতারাতি ‘মন্দির’ গড়ে তুলেছে সুমীর চৌধুরী মন্টি নামের এক মাদকাসক্ত যুবক।
এই যুবক প্রতিনিয়ত ইয়াবা সেবন ও মদপানে বুদ হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন মাদকের সাথে জড়িত থাকায় ছিলেন ‘দৃষ্টি’ নামের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে।
পরে সেখানে কোর্স সম্পূর্ণ না করেই পালিয়ে চলে আসেন এবং এসেই আশ্রয় নেন প্রবর্তক সংঘে মামার বাসায়। একপর্যায়ে সেখান থেকে মামাদের তাড়িয়ে নিজেই ঘরটির দখল নেন। প্রতি রাতে সেখানে বসান ইয়াবা সেবনের জমজমাট আসর।
পরে এক সকালে দেখা যায়, রাতে নাকি তিনি (মন্টি) স্বপ্নে দেখেছেন দেবদূতরা আসছেন তার নিজের ঘরে। মামার ভাড়াবাড়ির টয়লেটেই রাতারাতি গড়ে তুললেন শিবমন্দির। আশেপাশের প্রতিবেশীরা হতবাক এমন কাণ্ডে। আগের রাতেও ওই ঘরে ইয়াবাসেবীদের আড্ডা জমেছিল গভীর রাত পর্যন্ত। অথচ সকালেই হঠাৎ ‘শিবমন্দিরের’ গল্প!
এ বিষয়ে সমির নামের এই যুবক বলেন, পূজার মন্দির করা খারাপ কিছু নয় সেটি যার জায়গাতেই হোক। আমি স্বপ্নে দেবদূতদের দেখে মন্দির করলাম। আর যেখানেই কোনো মন্দির হয় তার পুরো জায়গাটা পবিত্র হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, পাঁচলাইশ এলাকায় প্রবর্তক পাহাড়ে বহু বছর আগে একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন সুকুমার সেন নামের এক ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর সুকুমার সেনের ছেলে ধীমান, বিশ্বজিৎ ও প্রলয় সেন সেখানে থাকতেন। কিন্তু সেই বাসায় হঠাৎ আবির্ভাব হয় তাদের ভাগ্নে সুমীর চৌধুরী মন্টির।
যোগাযোগ করা হলে সুমীরের মামা ধীমান সেন বলেছেন, তার ভাগ্নে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে এটি দখলে নিয়েছেন।
অন্যদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সুমীর।
এদিকে প্রবর্তক পাহাড়ের প্রহরী নিখিল গোস্বামী বলেন, ‘বিশ্বজিৎ, ধীমান ও প্রলয় সেন ঘরটিতে থাকার সময় মাঝে মধ্যে সেখানে যাওয়া আসা করতো সুমীর। কিন্তু হঠাৎ শুনি কৌশলে তার মামাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে সে ঘরটি দখলে নিয়েছে।’
অনুমতি না নিয়ে রাতারাতি প্রবর্তক পাহাড়ে শিব মন্দির গড়ে তোলার বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী।

