Site icon CPLUSBD.COM

প্রবাসী কর্মী ফেরত: তদন্ত কমিটি পেল আবুধাবি কর্তৃপক্ষের দোষ

সিপ্লাস ডেস্ক: করোনা মহামারীকালে শতাধিক প্রবাসী কর্মীর আবুধাবি বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসার জন্য প্রধানত আবুধাবির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকেই দুষছে এ ঘটনায় বাংলাদেশের গঠিত তদন্ত কমিটি।

কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়ে যাওয়া দুই এয়ারলাইন্সের ভুল থাকলেও এ ঘটনার জন্য তারা দায়ী নয়।

ফেরত পাঠানো এই যাত্রীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনারায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার ‍সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।

বুধবার তদন্ত কমিটির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান মো. মফিদুর রহমান।

আবুধাবি বিমানবন্দর থেকে সম্প্রতি ১১২ জন যাত্রীকে ফেরত পাঠানোর পর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ছয় কর্মদিবস পর কমিটি তাদের প্রতিবেদন দিল।

প্রতিবেদনটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এখন মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, “মূলত আবুধাবির ইমিগ্রেশন জটিলতার কারণে যাত্রী ফেরত এসেছে। দুবাই ও শারজাহ রুটে এমন ঘটনা ঘটেনি।

“আবুধাবির ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের পলিসি পরিবর্তন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেখানে বলা হয়, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের যেতে হলে দ্য ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপের (আইসিএ) ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু আমাদের যাত্রীরা এ বিষয়টি মিস করে গেছেন।”

এই যাত্রীদের যারা নিয়ে গিয়েছিল, সেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যারাবিয়াকেও আবুধাবি ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে তথ্যটি জানানো হয়নি বলে এই জটিলতা দেখা দেয় বলে তদন্ত কমিটির ভাষ্য।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “যাত্রীদের ফেরত পাঠানো কিংবা কী করলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সে দেশে ঢুকতে পারবে, সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসকেও তারা জানায়নি।

“আবুধাবির হঠাৎ পলিসি পরিবর্তন ও তাতে অস্পষ্টতা থাকার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। যার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যারাবিয়া আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

শুধু বাংলাদেশই নয়; ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তানের যাত্রীদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান বেবিচক চেয়ারম্যান।

এয়ারলাইন্স দুটির ত্রুটির বিষয়ে মফিদুর বলেন, “যাত্রীদের বোর্ডিং পাস ইস্যুর ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সকে ৪টি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। আবুধাবি থেকে বোর্ডিং পাসের ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সকে চেক-ইন করার সময় ‘বিজিডি’ কোড এন্ট্রি দিতে হয়।

“তবে ‘বিজিডি’ কোড দিয়েও বোর্ডিং পাস না পাওয়ায় এয়ারলাইন্সের কর্মীরা ‘বিজি’ কোড দিয়ে চেষ্টা করেন এবং বোর্ডিং পাস ইস্যু করেন। তবে বিজি কোডটি বুলগেরিয়ার জন্য, বাংলাদেশের জন্য না।”

তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফেরত আসা ১১২ জনকে সরকারি ব্যবস্থায় ফের আবুধাবি পাঠানোর ব্যবস্থা করা, দেশে অবস্থানরত অন্যান্য প্রবাসীদের আবুধাবি যেতে এয়ারলাইন্স ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মধ্যে তথ্য লেনদেন জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নীতিমালাসহ অন্যান্য বিষয়ক হালনাগাদ তথ্য এবং যাত্রীদের সেবা দিতে একটি অনলাইন পোর্টাল খুলে সেখান থেকে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেওয়ার সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।