সিপ্লাস প্রতিবেদক: চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে শুরু হয়েছিল করোনার টিকাদান কর্মসূচি।
শুরুতে টিকার প্রতি মানুষের ছিল নানা সংশয়। পরে সে চিত্র বদলে যায়। প্রথম দিকে বয়স্কদের টিকা দেওয়া শুরু হলেও পরে ৪০ বছর বয়সীদের টিকা নিতে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে টিকা গ্রহণে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে টিকার নিবন্ধন পাওয়াটাও অনেকটা বড় ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
সে পরিস্থিতিতে অনেকে নিবন্ধনের পর টিকা গ্রহণের তারিখের জন্য মোবাইলে ক্ষুধে বার্তার (এসএমএস) অপেক্ষায় থাকেননি। নিজের পরিচয়, তদবির এবং নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে অনেকে টিকা গ্রহণ করেছেন। আবার অনেকে এক কেন্দ্রে নিবন্ধন করার পর টিকা গ্রহণ করেছেন আরেক কেন্দ্রে গিয়ে। এমন পন্থা অবলম্বনকারীদের মধ্যে সমাজের নানাভাবে ক্ষমতাবান মানুষের সংখ্যাই বেশি। নানা কৌশলে টিকা গ্রহণ করে অনেকে নিজেদের সফল মনে করলেও তারাই এখন টিকার সনদ নিয়ে বিপাকে। তাদের জন্য মিলছে না টিকার সনদ। খুঁজে পাচ্ছেন না উত্তরণের উপায়। দেশ-বিদেশে ভ্রমণের জন্য টিকা গ্রহণের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করায় তারা এখন দিশেহারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারিখের জন্য ক্ষুধে বার্তার অপেক্ষা না করে এবং এক কেন্দ্রে নিবন্ধন করার পর অন্য কেন্দ্রে গিয়ে যারা টিকা গ্রহণ করেছেন সুরক্ষা অ্যাপস থেকে তারা সনদ গ্রহণ করতে পারছেন না। টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরও তা সার্ভারে ডাটা এন্ট্রি না হওয়ায় এমন জটিলতা সম্মুখিন। নির্দেশনা অনুযায়ী সুরক্ষা অ্যাপস থেকে সনদ গ্রহণের চেষ্টা করা হলে প্রদর্শন করা হতো- ‘আপনার সবগুলো ডোজ সম্পন্ন করে আবার চেষ্টা করুন’। বর্তমানে চেষ্টা করার পর প্রদর্শন করা হচ্ছে- ‘আপনার ১টি ডোজও সম্পন্ন হয়নি। ন্যূনতম ১টি ডোজ সম্পন্ন করে আবার চেষ্টা করুন’। বিভিন্ন প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেতে আগ্রহীরা এখন দিশেহারা।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘সবকিছু নিজের মতো করে পেতে চাইলে কিছু মাশুল গুনতে হয়। নিয়ম অনুসরণ না করে নানা কৌশল, তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে যারা টিকা গ্রহণ করেছেন তারাই এমন পরিস্থিতির শিকার। সনদ না পেলেও টিকা গ্রহণ করে অনেকটা সুরক্ষিত এটাই তাদের শান্তনা। যারা এক জেলায় নিবন্ধন করার পর অন্য জেলায় গিয়ে, শহরে নিবন্ধন করার পর উপজেলায় গিয়ে অথবা উপজেলায় নিবন্ধন করার পর শহরে গিয়ে টিকা গ্রহণ করেছেন তাদের ক্ষেত্রেই বেশি জটিলতা। যে টিকাদান কেন্দ্রে নিজের নাম নিবন্ধন ভুক্তভোগীরা সেখানে গিয়ে চেষ্টা-তদবির করে দেখতে পারেন। তবে প্রবাসী, বিভিন্ন শিক্ষার্থী এবং রাষ্ট্রীয় বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিতদের মধ্যে যারা এ ধরনের জটিলতার সম্মুখিন তাদের ক্ষেত্রে আমরা সাধ্যমতো সহযোগীতা করার চেষ্টা করছি।








