নিউজটি শেয়ার করুন

প্রাথমিক সদস্য ও কাউন্সিলর নিয়ে চরম বিতর্ক: মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৫ নভেম্বর

সন্দ্বীপ উপজেলার মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সাউথ সন্দ্বীপ ডিগ্রী কলেজ অডিটোরিয়ামে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মেলনে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান মিতা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার মোঃ শাহজাহান বিএ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খসরুসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ।

তবে সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখোর পরিবেশের পরিবর্তে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ভিন্ন দলের লোকজন দিয়ে কাউন্সিলর তালিকা প্রস্তুত করার অভিযোগ উঠেছে আহবায়ক দিদারুল আলম দিদারের বিরুদ্ধে।

প্রায় অর্ধযুগ আগে সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে সক্রিয় অবস্থান করায় কমিটি ভেঙ্গে দিদারুল আলম দিদারকে আহবায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে আহবায়কের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কোন কর্মসূচি পালন না করার অভিযোগ রয়েছে । তিনমাস আগে থেকে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য নবায়ন ও নতুন করে প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ শুরু হলে নতুন করে সক্রিয় হয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। তবে এতে প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহে আহবায়কের নিজের পছন্দের বাইরে কাউকে সদস্য না করার অভিযোগ ছিল শুরু থেকেই।

অভিযোগ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুস সালাম পর্যন্ত পৌঁছলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বসে তা মিমাংসা করে সাংগঠনিক কাঠামো তুলে ধরে গঠনতন্ত্র মানতে নির্দেশনা দেন। কিন্তু এরপরেও আহবায়কের বিরুদ্ধে নির্দেশনা ভাঙ্গার অভিযোগে তুলেছে সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।

তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, ইউনিয়ন কমিটির আহবায়ক তার পছন্দের বাইরের কাউকে সদস্য ফরম দেননি। এমনকি বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদককেও নতুন সদস্য তালিকা ও কাউন্সিলর তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন । ওয়ার্ড কমিটিতে নিজের পছন্দের লোকদের হাতে প্রাথমিক সদস্যের ফরম দিয়ে তাদের অনুসারী বিএনপির লোকজনকে সদস্য করে কৌশলে কাউন্সিল অধিবেশন করেছে। এভাবে তিনি ৩ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা হানিফকে সাধারণ সম্পাদক ও ৬ নং ওয়ার্ডে বিএনপির চিহ্নিত নেতা রহমান মেম্বারকে সভাপতি বানায়। ফলে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫, ৬ ও ৭ নং সহ তিনটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলে মারামারি হয়ে কাউন্সিল বন্ধ হয়েছিল।

মাইটভাঙ্গা ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাবা ওয়ার্ড কমিটির দুইবারের সাধারণ সম্পাদক। আমিও গত দুই কমিটির সাধারণ সম্পাদক। আমি তার অনুসারী নয় বলে আমাকে প্রথমে প্রাথমিক সদস্য পর্যন্ত করেনি। পরে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে প্রাথমিক সদস্য করলে কাউন্সিলর করেনি। শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিকে বিষয়টি জানালে তিনি নিজের ক্ষমতাবলে আমাকে কাউন্সিলর করেন। একইভাবে ৩ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আলম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমকে কাউন্সিলর করেনি। এভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডের চরম অনিয়ম করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আহবায়ক দিদারুল আলম দিদার বলেন, আমরা এখনো সদস্য ফরম পূরণের সুযোগ রেখেছি। তবে আনোয়ার হোসেন গত ইউপি নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের সময় আমার সামনে থেকে দুইজন কাউন্সিলরকে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য আমার সামনে থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তাই আমি মনে করি আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্যতা তার নেই।

মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মজাহারুল ইসলাম বলেন, মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের বেশীরভাগ ওয়ার্ডে কিছু দলীয় লোকজন সদস্য তালিকা বাদ পড়েছিল। আমি নিজে কাউন্সিল অধিবেশনের আগে যারা এসেছে বাছাই করে তাদের সদস্য করিয়েছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাষ্টার মোঃ শাহজাহান বিএ জানান, মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের প্রাথমিক সদস্য ও কাউন্সিলর তালিকা বিষয়ে যেসব কথা আমার কাছে এসেছে আমি সাথেসাথেই তার সমাধান দিয়েছি। কাউন্সিলর থেকে বাদ পড়েছে তাদের কয়েকজন আমার কাছে এসেছে এবং যাচাই করে তাদের আমি কাউন্সিলর করেছি করব।এরপরেও যদি কেউ বাদ পড়ে তবে আমাদের জানালে অবশ্যই বিবেচনা করব।