নিউজটি শেয়ার করুন

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাস চট্টগ্রামে পুলিশের কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র

সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনা সংকট মোকাবেলায় নগরীর সাগরিকা এলাকার প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিবাসে পুলিশের কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

এদিকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিবাসে পুলিশের কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র করায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার (সিএমপি) মাহাবুবর রহমান বিপিএম,পিপিএম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রীনিবাসকে কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেন। সেই থেকে চট্টগ্রামে করোনার রোগীদের সংস্পর্শে আসা বা করোনার ঝুঁকিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিতে কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এই ছাত্রীনিবাস।

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার খুরশিদুর রহমান জানান, গেল এক মাস ধরে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাসকে কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছাত্রীনিবাসটি কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র হিসাবে কাজে লাগাতে জেলা প্রশাসনকে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, অধুনা নগরীর সাগরিকাস্থ ছাত্রীনিবাসটিতে ছাত্রী ভর্তির জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও এখনও পর্যন্ত ছাত্রী ভর্তি করা হয়নি।

সাগরিকায় প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রীনিবাসটি এখন পুলিশ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেসব পুলিশ সদস্য করোনা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছে কিংবা যাদের করোনা হওয়ার আশংকা রয়েছে তারা এই কোয়ারারেন্টাইন কেন্দ্রে নিজেদের আলাদা করে রাখছেন।

বর্তমানে  ১৬০ জন লোকের বাস উপযোগী এই ছাত্রীনিবাসে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের ৬৫ জন পুলিশ সদস্য কোয়ারেন্টাইন হিসেবে বাস করছেন। যারা নানাভাবে করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন বা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এদের সকলের প্রাত্যহিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং নিয়মিতভাবে চিকিৎসক তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। কারও করোনা উপসর্গ তীব্র হলে  তাদের পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এই হোস্টেলটি অবকাঠামোগতভাবে কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী। এখানে আলাদা আলাদা ৪৫টি কক্ষ রয়েছে যেখানে একজন আরেকজনের সংস্পর্শে না এসে নিরাপদে থাকতে পারছেন। এছাড়াও এখানে উন্নত টয়লেট সুবিধা রয়েছে। অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার এই কেন্দ্রের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আটতলা ছাত্রীনিবাসটিতে আলাদা খাট, বিছানা, নিজস্ব কেবিনেট, টেবিল, চেয়ারের পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে। এমনকি জেনারেটর ও ইন্টারকম সুবিধাও রয়েছে ছাত্রীনিবাসটিতে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার সদস্যও আছেন।