আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে বালুটিলা এলাকায় থামছে না পাহাড় কাটা। দিন দিন বেড়ে চলছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা। পাহাড় কাটার ফলে অনেক জায়গায় পাহাড়ে ফাটলও দেখা দিয়েছে। এতে যে কোনো সময় পাহাড় ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশংকা বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি চলছে টিলা কেটে মাটি বিক্রির কাজও। এভাবে পরিবেশ বিনষ্ট হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বড় কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বেশীরভাগ প্রভাবশালী লোকেরা বাড়ি তৈরী ও মাটি বিক্রির উদ্যেশ্যে এসব পাহাড় কেটে উজার করে চলেছে। ইউপি সদস্যদের(জনপ্রতিনিধি) এলাকাতে এত বড় বড় পাহাড় কাটা হচ্ছে তারা প্রশাসনকে কিছুই জানাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়ে লাভ নাই। প্রশাসনের লোকজন আসে এসে পাহাড় কাটা বন্ধ করে। কিছুদিন পর দেখা যায় আবারো সেই আগের মতোই পাহাড় কাটা হচ্ছে। জানা গেছে, দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলার বাজারের উত্তর পাশে শাহাজহান সাজু, বেলাল, জাহাঙ্গীর রশিদ, মীরু এ পাহাড় কাঁটার সাথে জড়িত। এ বিষয়ে জানতে এলাকায় গেলে মীরুকে পাওয়া গেলেও অন্যদের পাওয়া যায়নি। পাহাড় বিষয়ে মীরু কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বনবিভাগ মামলা দিয়ে। মামলা দেয়ার পরে কেন পাহাড় কাটছেন প্রশ্ন করলে তিনি আরো এখানে আমি একাই পাহাড় কাটি আরো অনেকেইতো পাহাড় কাটছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, বাড়িঘর নির্মাণের কথা বলে ৫০-৬০ ফুট উঁচু টিলা কেটে মাটির শ্রেণি পরিবর্তন করে সমতল করা হচ্ছে। আর পাহাড় ও টিলা কাটা মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এই মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে নদী, পুকুর ও নিচু জমি। প্রতিদিন ট্রাক বোঝাই করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। পাহাড় কেটে লাল মাটি রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাত ৮টার পর থেকেই কুপি জ্বালিয়ে ওই এলাকায় শুরু হয় পাহাড়-টিলা কাটা। পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও উপজেলা প্রশাসন, বনবিভাগ এবং থানা পুলিশের নীরব ভূমিকায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করে হেঁয়াকো বিট কর্মকর্তা গোলাম কাদির বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে ইতিমধ্যে দুটি মামলা হয়েছে মামলা হওয়ার পরও কেন পাহাড় কাটা হচ্ছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সায়েদুল আরেফিন বলেন, দাঁতমারা বাগান বাজার এলাকায় বনবিভাগের জায়গা অনেক বসতি বসবাস করেছেন। তারা পাহাড় কাটছে বলে জানতে পেরেছি। বনবিভাগের সাথে কথা বলেছি,নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যারা পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তারপরও যদি তারা পাহাড় কাটা বন্ধ না হয় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

