নিউজটি শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

সিপ্লাসের ধারণকৃত ছবি

আনোয়ার হোনেন ফরিদ, ফটিকছড়ি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলা বাজারের দক্ষিণ পাশে ৩ স্পট, দাঁতমারা ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজারের উত্তর-দক্ষিণ ২টি স্পট, নারায়নহাট বাজারের পূর্বে কুমারপাড়া পশ্চিম দামারখীল অন্তত ৫টি স্পটে, পাইন্দং ফকিরাচানে প্রায় ৮টি স্পট, ফটিকছড়ি পৌরসভার চেঙ্গারকুল, কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুরু ও লেলাং খালের ৪টি স্পটে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দাঁমরারা, নারায়ানহাট, কাঞ্চননগর ও পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচান এলাকায় হালদা নদীর বেঁড়িবাধ ও নদীর চর কেটে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশাল একটি সিন্ডিকেট।

প্রতিদিনই এ সিন্ডিকেটের ব্যক্তিরা নির্বিচারে হালদা নদীর বালি-চরের মাটি উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীরা বাধা দিলে তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক স্থানে চলছে বালু উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা। ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা ও জনপ্রতিনিধির সহায়তায় অবৈধ এ কাজ চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এদিকে, হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, দৈনিক মজুর হিসেবে তারা বালু উত্তোলন কাজ করছে।

অপরদিকে, হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে অনেক আগে। তবে প্রশাসনের অভিযানের মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পুনরায় এ কাজ শুরু করে প্রভাবশালীরা। তবে দিনের বেলার পাশাপাশি রাতেও থেমে নেই এখনকার বালু- হরিলুট। বেঁড়িবাধ নির্মাণ ও সরকারের গৃহিত পদক্ষেপের কারণে সম্প্রতি বদলে যাওয়া হালদা নদী আবারও হুমকির মুখে।

এমতাবস্থায় হালদা নদী ভাঙন রোধে চলমান বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সিসি ব্লক স্থাপনে ১৫৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞও ভেস্তে যেতে পারে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মুহিনুল হাসান বলেন, ইতিমধ্যে আমরা কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। বালি উত্তোলন বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here