নিউজটি শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে অভিযানে জরিমানা করার সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না মাটি ও বালু উত্তোলন

আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে পাইন্দং ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার জানে আলমের ছোট ভাই দিদারুল আলম ফকিরচান এলাকার হালদা নদী হতে বালু- উত্তোলন ও মাটি কেটে দেদারচে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছন লাখ লাখ টাকা।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচান এলাকায় হালদা নদীর বেঁড়িবাধ ও নদীর চর কেটে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দিদার এর নেতৃত্বে বিশাল একটি সিন্ডিকেট।

এলাকাবাসীরা জানায়, গত ৬ মাস ধরে এ সিন্ডিকেটের ব্যক্তিরা নির্বিচারে হালদা নদীর বালি-চরের মাটি উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীরা বাধা দিলে তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, দৈনিক মজুর হিসেবে তারা বালু উত্তোলন কাজ করছে।

অন্যদিকে, উপজেলার সমিতিরহাট ইউনিয়নের দক্ষিন নিশ্চিতাপুর এলাকায় নিয়মিত হালদী নদী থেকে বালু উত্তোলন করেছে জনৈক শাহাজাহান ও তার ভাই। উত্তোলনকৃত এ বালু নদী পথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে স্থানীয় আরবানীয়া সওদাগর ঘাট এলাকায় হালদা ব্রিজের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়।

পরে সেখান থেকে বিক্রি করছে উত্তোলিত এ বালু। এছাড়াও লেলাং ইউনিয়নের কর্ণফুলী চা বাগানের পূর্ব দিকে দুদিয়া খোলা এলাকা থেকে ঐ এলাকার বলির বাড়ীর জনৈক কামাল উদ্দিন ও প্রভাবশালী মুছা কোম্পানীর ছেলে মিলে দীর্ঘ দিন ধরে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বালু উত্তোলকারীরা নিরাপদে যাতায়াতের জন্য কর্ণফুলী চা বাগানের সড়কপথ ব্যবহার করে আসছে। পাশাপাশি নাজিরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের লালমাটিয়া এলাকায় ধর্মছড়ি খাল থেকে স্থানীয় রাশেল নামের এক যুবক দিন-দুপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে মোটা দামে বিক্রি করে আসছে।

অপরদিকে, হালদা নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে অনেক আগে। তবে প্রশাসনের অভিযানের মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পুনরায় এ কাজ শুরু করে প্রভাবশালীরা। তবে দিনের বেলার পাশাপাশি রাতেও থেমে নেই এখনকার বালু-মাটির হরিলুট। বেঁড়িবাধ নির্মাণ ও সরকারের গৃহিত পদক্ষেপের কারণে সম্প্রতি বদলে যাওয়া হালদা নদী আবারও হুমকির মুখে।

এমতাবস্থায় হালদা নদী ভাঙন রোধে চলমান বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সিসি ব্লক স্থাপনে ১৫৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞও ভেস্তে যেতে পারে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়াও, ফটিকছড়ির নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়াছড়ি, কাঞ্চননগর, ধর্মপুর-খিরাম সত্তাখাল, ফটিকছড়ি পৌরসভার চেঙ্গারকুল,নাজিরহাট পৌরসভার টেকের দোকান, ডাইমজুড়ি বিল ও সুয়াবিল ইউনিয়নের একাধিক স্থানে চলছে মাটি ও বালু উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা। ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা ও জনপ্রতিনিধির সহায়তায় অবৈধ এ কাজ চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সম্প্রতি সুয়াবিল ইউনিয়নের বারমাসিয়া এলাকায় অবৈধভাবে হালদা নদীর পাড় কাটতে গিয়ে মাটিচাপায় নিহত হয়েছে সাকিব নামের এক শ্রমিক। এর আগেও একই স্থানে বালু-মাটি ব্যবসা নিয়ে একাধিক রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে বালু মাটি কাটার তার সাথে জড়িত দিদারের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দক্ষিণ নিশ্চিন্তপুর শাহজানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি আগে বালু উত্তোলন করেছি। বর্তমানে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছি।

এসব বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সায়েদুল আরেফিন বলেন, বালু ও মাটি কাটা প্রতিরোধে আমরা কঠোর অবস্থানে। মুলত যেসব পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা হয় সেখানে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে।

হালদা থেকে আর কাউকে মাটি-বালু নিয়ে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। যারা এ কাজগুলো করে আমরা তাদের তালিকা তৈরি করছি। এদের ধরতে পারলেই মামলার পাশাপাশি জরিমানা গুণতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি নদীর পাড় ও চর কেটে মাটি পাচার করার অপরাধে কয়েকজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ৮ থেকে ১০টি জিপ-ট্রাক-ট্রলিসহ কয়েকটি খননযন্ত্র আটক করা হয়েছে।