নিউজটি শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে বাল্য বিবাহে সহায়তা করায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জিডি

ফটিকছড়িতে বাল্য বিবাহে সহায়তা ও পুলিশকে হয়রানির কারণে খিরাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সৌরভ এর বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার খিরাম ইউনিয়নে এ বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।
জিডির কথা সত্যতা স্বীকার করে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ৯৯৯ হেল্পলাইন থেকে খিরামে বাল্য বিবাহ হচ্ছে এমন খবর পাওয়ার সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদুল আরেফীনকে জানানো হয় এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানকে এই বাল্যবিবাহ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে আবার ৯৯৯ হেল্পলাইন থেকে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার খবর পেয়ে (ঘটনাস্থলে) কনের (মেয়ে) বাড়ীতে গেলে মেয়ের পরিবার জানায়, আমরা যাবার আগেই মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ যাওয়ার পর অন্য একটা মেয়েকে সাজিয়ে সামনে আনা হয়। এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মেয়েটাকে আমরা (পুলিশ) যাওয়ার আগেই শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। পরে আমরা কনের শ্বশুরবাড়িতে (জামাইয়ের) বাড়িতে গেলে কনেসহ জামাই এর পরিবারের সবাই পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়। কনের নাম শারমিন। সে খিরাম ইউনিয়নের উত্তর খিরাম টিলাপাড়া এলাকার অাব্দুস সালামের কন্যা।
উক্ত ওয়ার্ডের মেম্বার আহমদ উল্লাহ বলেন, বিকেলে হঠাৎ ওসি ফোন করে বলেন তোমার এলাকায় বাল্যবিবাহ হচ্ছে। বিবাহ হচ্ছে জানি, তবে বাল্যবিবাহ হচ্ছে কিনা জানিনা। তখন এলাকায় ছিলাম না। ফোন করে এলাকায় খবর নিলাম, সাথে সাথে ওসি সাহেবকে বলেছি। চেয়ারম্যানকে বলেছি, চেয়ারম্যান আমাকে বলেছে বিষয়টি আমি দেখছি। এর বাইরে আমি আর কিছু জানিনা। কাজী মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন, বাল্যবিবাহ কথা জানিনা, খিরাম ইউনিয়নে আপনি ছাড়া আর কোন কাজী আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অামি অার কাজী নেই। বিয়ের বিষয়ে আমি জানিনা।
খিরাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহবার হোসেন সৌরভ বলেন, নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি সাহেব ফোন করার পরে আমি মেয়ের পরিবারকে বিয়ে বন্ধ দিতে বলেছি। পরে মেয়ের পরিবার আমাকে বলেছে বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। সন্ধ্যায় পুলিশ এসেছে তদন্ত করেছে। কাবিন হয়েছে কিনা জানিনা, কাবিন না হলে তো বিয়ে হবে না। যদি কাবিন হয়ে থাকে তার দায় অামি নেব প্রশাসনকে এমন কথা বলেছি। জন্মনিবন্ধন কে দিয়েছে তাও একটু সত্যতা যাচাই করা দরকার। তবে আপনার নামে থানায় জিডি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু বলেননি।
ফটিকছড়ি থানার ওসি বাবুল আকতার বলেন, ৯৯৯ হেল্পলাইন থেকে ফোন দেয়া হয়েছিল, খিরাম একটা বাল্যবিবাহ হচ্ছে, বিষয়টি তাৎক্ষণিক ইউএনও কে জানিয়েছি, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বলেছি আমাদের এখান থেকে যেতে টাইম লাগবে একটু বিয়েটা বন্ধ করতে হবে। আমরা যেতে যেতে বিয়েটা সম্পন্ন হয়ে গেছে। অফিসার যাওয়ার পর অন্যকে মেয়েকে সাজিয়ে আমাদের অফিসের সামনে এনেছে মেয়ের মা। এই আমার মেয়ে, মেয়ের বিয়ে হয় নাই। পরে আমাদের অফিসের আশেপাশে খবর নিয়ে জানতে পারে,মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। মেয়েকে নিয়ে বর অলরেডি চলে গেছে। চেয়ারম্যান মহোদয় উপস্থিত ছিল বলেছে অনেকই বলেছে।
ইউএনও মহোদয়কে বলেছি , ইউএনও সাহেব বলেছেন, যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানায় জিডি করা হয়েছে।