ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুত্র হত্যার বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিগত এক বছর আগে খুন হওয়া নানুপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ কামালের মা জাহানারা বেগম।
বুধবার (৫ মে) দুপুরে নিহত রাশেদ কামালের নানুপুরের বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর মায়ের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাশেদ কামালের ছোট ভাই জামাল উদ্দিন জাশেদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- গেলো বছরের ১১ জুন রাতে নানুপুর বাজারে ড্রেনের সংস্কার কাজ তদারকি করার সময় সন্ত্রাসী সৈয়দ মুহাম্মদ বাকের এর নেতৃত্বে মাসুম, মান্নান, মোস্তাক, লেংগা সাহেদ, নাছির, নিখিল, খোকন, ছোট মামুন, বড় মামুন, হায়দার, সাবেক এনডিপি ক্যাডার রাউজানের কালা জাহাঙ্গীরসহ একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আমার ছেলে রাশেদ কামালকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। পরবর্তীতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন না যেতেই কয়েকজন আসামী জামিনে এসে আমাদেরকে হুমকী-ধমকী প্রদর্শন করে যাচ্ছে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, নাজিরহাটের যুবলীগ নেতা গ্রেফতাকৃত হোসেন আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে বলেছেন, রাশেদ কামালকে হত্যা করার জন্য বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে মাইজভাণ্ডার এলাকার যুবলীগ নেতা হাসান ওরফে পাঠান হাসান অন্যতম। অথচ সেই অস্ত্র সরবরাহকারী পাঠান হাসান এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিশ রহস্যজনক কারণে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করছে না। এছাড়া মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ বাকের বর্তমানে জেলে রয়েছে। ইতোমধ্যে শুনতে পাচ্ছি মোটা অংকের বিনিময়ে সে জামিনে আসার চেষ্টা করছে। হত্যাকারীরা এভাবে জামিনে চলে আসায় আমরা হতাশ এবং সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।
জাহানারা বেগম আরো বলেন, বর্তমানে রাশেদ কামালের বিধবা স্ত্রী ও তিন এতিম সন্তান নিয়ে আমরা এক প্রকার অনিশ্চয়তায় জীবন পার করছি। এ অবস্থায় খুনি বাকের সহ অন্যান্য হত্যাকারীদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে নিহত রাশেদ কামালের তিন সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

