নিউজটি শেয়ার করুন

ফটিকছড়ির ১৪ ইউনিয়নে নৌকার মাঝি কারা, নির্ধারণ শনিবার

ফটিকছড়ির ১৪ ইউনিয়নে নৌকার মাঝি কারা
ছবি সিপ্লাসের

আনোয়ার হোসেন ফরিদ: এবার ফটিকছড়ির ১৪ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে ৯০ জন প্রার্থী। এ ৯০ জন থেকে কারা পাচ্ছেন নৌকার টিকেট তা নির্ধারণ হচ্ছে আগামীকাল শনিবার ৯ অক্টোবর।

আগামী ১১ নভেম্বর ফটিকছড়ির ১৪ ১৪ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ইউনিয়ন গুলো হলো: বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং, সুন্দরপুর, কাঞ্চননগর, লেলাং, রোসাংগীরি, বক্তপুর, ধর্মপুর, জাফতনগর, সমিতিরহাট, ও আব্দুল্লাহপুর।

২৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ফটিকছড়ির ১৪টি সহ দেশের ৮৪৮টি ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর। এছাড়া মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ অক্টোবর। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর। দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৪ ও ২৫ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২৭ অক্টোবর। সর্বশেষ ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদনপত্র গ্রহণ করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভা ৮ ও ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকে ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। মূলত এ ৯ অক্টোবর শনিবার সর্বশেষ বৈঠকের পর সন্ধ্যার দিকে জানা যাবে ফটিকছড়ির ১৪ ইউনিয়নে নৌকার মাঝি কারা হচ্ছেন।

তবে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলীয়গত অবস্থান, জনপ্রিয়তার নিরিখে প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকার টিকেট প্রাপ্তিতে সর্ব্বোচ্ছ দুই থেকে তিন জনের নাম উঠে আসছে। ফটিকছড়ির ১ নং ইউনিয়ন বাগানবাজার। এ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজন।

তাঁরা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রুস্তম আলী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন সাজু ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধরণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। উপজেলার উত্তরের জনপদে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে খ্যাত এ ইউনিয়নে পাঁচ দফায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে এলাকায় শক্তভিত তৈরী করেছেন রুস্তম আলী।

তিনি বিএনপির শাসনামলে কয়েক দফায় মামলা-হামলার শিকার হলেও আওয়ামী রাজনীতিতে অবিচল তিনি। ফটিকছড়ির রাজনীতির মাঠে প্রচার আছে ভোটের রাজা রুস্তম। রুস্তম না হলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জেতা যেন কঠিন হয়ে পড়ে। যার কারণে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ভোটের রাজনীতিতে তাঁর দিকে মুখিয়ে থাকতে হয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির সাথে রয়েছে রুস্তমের গভীর সখ্যতা।

বারবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া, স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার, দলের হাইকমান্ডে লবিং; সবকিছু মিলিয়ে মনোনয়ন দৌঁড়ে অনেকদূর এগিয়ে রুস্তম আলী। রফিকুল ইসলাম মনোনয়ন চাইলেও তিনি মূলত রুস্তম আলীর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ ইউনিয়নে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ডাক্তার সাজু রুস্তমের বিকল্প হয়ে এলাকায় রাজনীতির মাঠে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে কখনো এক পা সামনে, আবার দুই পা পিছনে, এমন নীতিতে চলেন বলে কথিত আছে। যার কারণে রুস্তমকে টেক্কা দেওয়ার মত সাংগঠনিক শক্তি এখনো সঞ্চয় করতে পারেনি সাজু। সব মিলিয়ে বলা যায়, নৌকা পাওয়ার দৌঁড়ে রুস্তম থেকে সাজু অনেক পিছিয়ে।

আয়তনে উপজেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন দাঁতমারা। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক জানে আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল আলম, ইসমাইল মজুমদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক আবু মনছুর ও মাস্টার জয়নাল। উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই ধারার রাজনীতিতে নুরুল আলম সনি-নাজিম মুহুরী বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।

এক্ষেত্রে সনি-নাজিমের আশীর্বাদের কারণে নুরুল আলম মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে থাকার গুঞ্জন উঠেছে। অন্যদিকে জানে আলম এমপি ভাণ্ডারী-উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়বের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলেও তলে তলে বিপরীত বলয়ের সাথেও সম্পর্ক রেখে চলেন বলে কথিত আছে।

ফলে ফটিকছড়ির রাজনীতিতে ম্যানেজম্যান হিসেবে পরিচিত জানে আলম দাঁতমারায় পুনরায় নৌকার মাঝি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ইসমাইল মজুমদার ও জয়নাল আবেদীন যতটা আলোকিত হওয়ার কথা ছিল হেভিওয়েট দুই আলমের দৌঁড়ঝাপে ছায়া পড়েছে তাঁদের নৌকা প্রাপ্তির সম্ভানা।

নারায়ণহাট ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন ৮ জন। তারা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন, সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম, যুবলীগ নেতা খোরশেদুল আলম মামুন, সাবেক ছাত্রনেতা বাবলু বিশ্বাস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা বিকাশ কান্তি নন্দি ও ইদ্রিছ আলম।

আবেদন তালিকায় প্রার্থী সংখ্যা আটজন হলেও নৌকা প্রাপ্তির দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন হারুন, রতন ও নুরুল আমিনের মধ্যে যেকোন একজন। এরমধ্যে দায়িত্বপালন কালীন সময়ে মেম্বারদের বিরুদ্ধাচারণের বিষয়টি হারুনের নৌকা পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাস্টার রতন প্রার্থী হলেও বাবলু বিশ্বাস – বিকাশ নন্দী প্রার্থী হওয়ায় এ সম্প্রদায়ে অনৈক্যের আভাস দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে মাঠের রাজনীতিতে তেমন পরিচিত না হলেও অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও বিগত সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে নৌকা পাওয়ার দৌঁড়ে কিছুটা এগিয়ে নুরুল আমিন।

হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন স্থানীয় পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতা।

তাঁরা হলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান হাসান সরোয়ার আজম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টু, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী রহমত উল্লাহ ও যুবলীগ নেতা রবিউল হোসেন সিকদার রুবেল।

এ ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন সরোয়ার আজম ও জুলফিকার আলী ভুট্টুর মধ্যে যেকোন একজন। সেক্ষেত্রে বয়স ও আর্থিক স্বচ্ছলতা কারণে অনেকটা এগিয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টু।

তবে বিগত সময়ে চেয়ারম্যান থাকার কারণে ইউনিয়ন জুড়ে সরোয়ার আজমের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। বিষয়টি প্রাধান্য পেলে হারুয়ালছড়িতে শেষ পর্যন্ত নৌকার মাঝি হতে পারেন প্রবীণ এ আওয়ামী লীগ নেতা।

ফটিকছড়ি সদরের সাথে লাগোয়া ইউনিয়ন পাইন্দং। এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের জন্য দলের কাছে আবেদন করেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম সিকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য তসলিম বিন জহুর, শফিউল আজম, রাইসুল ইসলাম চৌধুরী এমিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাবিবুল্লাহ চৌধুরী সাবু, সাধারণ সম্পাদক মজাহারুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা সাদেক আলী সিকদার শুভ।

আবেদনকারী সাতজন হলেও নৌকা পাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন শাহ আলম সিদকার, তসলিম, আজম, সাবু। এক্ষেত্রে গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করা শাহ আলম সিদকার দুপুরের আগে মাঠ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসলে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দৌঁড়ে পিছিয়ে পড়তে পারেন তিনি।

রাজনীতির মাঠে তসলিম পেয়ারুল ইসলামের নেতা হিসেবে পরিচিত। সময়ের রাজনীতিতে তিনি এখন পেয়ারু থেকে অনেকটা দূরে। বিষয়টা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে নৌকা তাঁর জন্য সোনার হরিণ নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ফুলকলির আজম, হাবিবুল্লাহ সাবুর যেকোন একজন নৌকা পেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

উপজেলার শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত কাঞ্চননগর। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন চারজন।

তারা হলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দিদারুল আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান তানভীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জানে আলম ও আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম আমান উল্লাহ। বিগত নির্বাচনে দিদার নৌকা নিয়ে পরাজিত হওয়ায় মনোনয়ন দৌঁড়ে এবার ছিটকে পড়তে পারেন তিনি।

সেক্ষেত্রে এ ইউনিয়নে আমান-জানে আলমের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান তানভীর। তবে এরমধ্যে গ্রুপিং রাজনীতির প্রভাব পড়লে এর ব্যত্যয় ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

সুন্দরপুর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন মোট ৮ জন।

তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, দিদারুল বশর চৌধুরী দুুদু, যুগ্ম সম্পাদক আমান উল্লাহ চৌধুরী লিটন, সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শহিদুল্লাহ, যুবলীগ নেতা মেজবাহ উদ্দিন সিকদার ও ফরিদ সিকদার।

মনোনয়ন প্রত্যাশী আটজন হলেও নৌকা পাওয়ার হিসাবে আছেন শাহনেওয়াজ, দুদু চৌধুরী, লিটন, জসিম, শহিদুল্লাহ। এবারের নির্বাচনে ত্যাগী দুদুর সাথে তরুণ লিটন নৌকার মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে থাকার কথা থাকলেও তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের শ্যালক হঠাৎ জসীম আলোচনায় চলে এসেছেন ।

মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় জসিমের নাম যাওয়ার ক্ষেত্রে উপর মহলের ইঙ্গিত রয়েছে; এমন কানাঘুষাও চলছে ফটিকছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে।

লেলাং ইউনিয়নে নৌকা চেয়ে দলের কাছে আবেদন করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন,
উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন মুহুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জসীম উদ্দিন মুহুরী, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াহিদুল আলম, সাইফুদ্দিন মাহমুদ ও ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ করিম।

এ ইউনিয়নে মূলত নৌকা পাওয়ার লড়াই হবে মুহুরী পরিবারের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বর্তমান চেয়ারম্যান শাহীনের মধ্যে। নাজিম মুহুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তিনি চায়বেন নৌকা প্রতীক তাদের ঘরে তুলতে।

অন্যদিকে, চেয়ারম্যান শাহীনও নৌকা পেতে সব রকমের টেকনিক প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। তবে মনোনয়ন খেলায় বোবা ভূমিকা মঞ্চস্থ হলে শেষ পর্যন্ত এ ইউনিয়নে শাহীনই হতে পারেন নৌকার মাঝি।

তবে শাহীনের নৌকা পাওয়া ঠেকাতে এবার মুহুরী পরিবার মরণ কামড় দিবে এমনটাই আভাস দিচ্ছেন নাজিম সমর্থিতরা।

রোসাংগিরী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাত জন।

তারা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান শোয়েব আল সালেহীন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম জাবেদ, সাবেক ছাত্রনেতা আলাউদ্দিন, তারেক নেওয়াজ পলাশ ও মোফাচ্ছের হোসেন।

এদের মধ্যে নৌকার পাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন শফি, শোয়েব ও সেলিম জাবেদ।

দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে চেয়ারম্যান শোয়েব ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধন করলেও দলের মূল স্রোতের সাথে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান শফি ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম জাবেদ ও শেষ পর্যন্ত হিসেবে চলে আসতে পারেন।

বক্তপুর ইউনিয়নে দলের মনোনয়ন চেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম সোলায়মান বি.কম, সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল আজম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান স্বপন, কার্যানির্বাহী সদস্য জালাল হোসেন, আব্বাস উদ্দিন বাদল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মীর মোরশেদুল আলম।

এ ইউনিয়নে নৌকা পাওয়ার খেলায় এগিয়ে আছেন সোলায়মান, স্বপন, জালালের মধ্যে যেকোন একজন। এক্ষেত্রে বর্তমান চেয়ারম্যান সোলায়মান নাজিম মুহুরী বিরোধী বলয়ে থাকা সত্তে¡ও কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।

তবে স্বপন ও জালাল নৌকা প্রতীক নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যে একটি পরিসংখ্যানে নৌকা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বপন এগিয়ে থাকলেও পুরনো সমীকরণে আলোচনায় জালাল।

ধর্মপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেতে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুল হক, কার্যনির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ মাসুদ, যুবলীগ নেতা মোরশেদুল আলম ও মো: সরোয়ার।

এ ইউনিয়নে নৌকা পাওয়ার আলোচনায় আছেন কাইয়ুম, মাহমুদুল হক ও মাসুদ। এ তিন নেতা স্থানীয় রাজনীতিতে পেয়ারু বলয়ের লোক হিসেবে পরিচিত। দলের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে পেয়ারু-সনি দুইজনই হাইকমান্ডে প্রভাব বিস্তার করেন বলে ফটিকছড়িতে কথিত আছে।

এক্ষেত্রে তিন প্রার্থী পেয়ারুর অনুসারী হলেও এ ইউনিয়নে রফিক বলয়ের প্রার্থী নেই। শেষ পর্যন্ত কাইয়ুম-হক দুই জনের মধ্যে যেকোন একজন নৌকা পেতে পারেন।

জাফতনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যানির্বাহী সদস্য আফাজ উদ্দিন, শফিউল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা জিয়া উদ্দিন জিয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিন্নাত আলী, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম, শহিদুল ইসলাম, মুহাম্মদ সেলিম ও ফয়েজ উল্লাহ মুজিব নৌকা পেতে দলের কাছে আবেদন করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে নৌকা পাওয়ার দৌঁড়ে একচ্ছত্র ভাবে এগিয়ে রয়েছেন আব্দুল হালিম। তবে স্থানীয় রাজনীতির নানা সমীকরণে হালিমের সাথে নৌকা পাওয়ার দৌঁড়ে টেক্কা দিয়ে যাচ্ছেন আফাজ, শফি ও জিয়া।

এছাড়া, হালিম পরপর দুইবার চেয়ারম্যান হওয়ায় নতুন মুখের দিকেও ঝুঁকতে পারে দলের হাইকমান্ড। এমনটা ঘটলে কপাল পুড়তে পারে হালিমের।

সমিতিরহাট ইউনিয়নে আবেদন করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ইমন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ, আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট মঞ্জুরুল আজম, সাইফুল ইসলাম মনজু, আব্দুস সবুর, রফিকুল ইসলাম, ইউসুফ ফিরোজ, মোকাররম হোসেন ও হানিফ হোসেন।

এ ইউনিয়নে সর্বোচ্চ দশজন নৌকার জন্য আবেদন করলেও নৌকা পাওয়ার মূল আলোচনায় রয়েছেন কালু, শাহনেওয়াজ, নাছির। তবে এরমধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের মূল স্রোতের সাথে থাকায় নৌকা পাওয়ার দৌঁড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন কালু।

অন্যদিকে, ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় দলের মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে কাজ করায় নৌকা প্রাপ্তিতে সংকটে পড়তে পারেন শাহনেওয়াজ।

উপজেলার সর্বদক্ষিণের ইউনিয়ন আব্দুল্লাহপুর। এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান অহিদুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা এস.কে.এম সেলিম, আব্দুল মাবুদ, এডভোকেট নাসির উদ্দিন মহসিন ও তৈয়ব আলী।

এ ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন অহিদ, সেলিম। এরমধ্যে গত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন সেলিম। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে অনুপস্থিত। বিষয়টি অহিদের নৌকা প্রাপ্তিকে সহজ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অন্যদিকে আব্দুল মাবুদ দলীয় মনোনয়ন চাইলেও মূলত তিনি অহিদের হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, সবকিছু নির্ভর করছে জেলা আওয়ামী লীগ ও দলের হাইকমান্ডের মনোভাবের উপর। প্রার্থী নির্বাচনে মূলত তারা প্রর্থীদের এলাকায় জনপ্রিয়তা, অতীতের দূর্নীতি, তৃণমুল থেকে পাঠানো তালিকায় নাম থাকা, বিভিন্ন সময়ে দলের বিরুদ্ধে গিয়েছে কী না, সর্বোপরি জেতার মতো আর্থিক সচ্ছলতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন দলের হাইকমান্ড। সব কিছু মিলিয়ে এসব বিষয়ে যারা এগিয়ে থাকবেন তারাই পাবেন নৌকার টিকেট।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here