নিউজটি শেয়ার করুন

ফলোআপ: সিপ্লাস টিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর কচ্ছপিয়া হাই স্কুলে সব ধরণের ফি নেয়া বন্ধ

রামু প্রতিনিধি: ‘কচ্ছপিয়াতে অ্যাসাইনমেন্টের টাকা তুলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন’ এ শিরানামে জনপ্রিয় অনলাইন টিভি চ্যানেল সিপ্লাস টিভিতে, একটি সংবাদ প্রচার হলে, টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের।

সংবাদের সুত্র ধরে সোমবার(১৬ নভেম্বর) সকালে দ্রুত স্কুলে ছুটে আসেন ককসবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার সালাউদ্দিন আহাম্মদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারকে স্কুলের নানা বিষয় নিয়ে জেরা করেন তিনি।

এসময় তদন্ত টিমের কাছে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পেরে, নুরুল আবছার নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

পরে স্কুলের অ্যাসাইনমেন্টসহ যাবতীয় ফিঃ না নেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি উত্তোলনকৃত টাকা, করোনা পরবর্তী মাসিক ফিঃ এর সাথে সমন্বয় করে নেওয়া জন্য নির্দেশনাজারি করেন কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার।

এসময়  উক্ত নির্দেশনার বিষয়ে দ্রুত নোটিশসহ ফেইজবুকে প্রচার করার কড়া নির্দেশ দেন এই কর্মকর্তা।

পরে, হাই স্কুলের পশ্চিম পাশের খেলার মাঠ পরিদর্শন করে, উক্ত মাঠটি খেলার উপযোগী করতে প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনেরও নির্দেশ দেন অফিসার সালাউদ্দিন আহাম্মদ।

এর আগের দিন, রামুর কচ্ছপিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্টসহ যাবতীয় ফিঃ অতিরিক্ত নেওয়ার প্রতিবাদে, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারের অপসারণ ও শাস্তির দাবীতে, শিক্ষার্থী এবং অভিবাবকদের মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।

রবিবার(১৫ নভেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে, কচ্ছপিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী ও অভিবাবকদের আয়োজিত মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে, স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সুশীল সমাজের লোকজন বক্তব্য রাখেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারকে অপসারণ করে শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশে করোনা কালিন সময়ে বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সদয় হয়ে অ্যাসাইনমেন্ট ফিঃ না নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশনা দিলেও, তাদের স্কুলে তা মানা হচ্ছে না। কোন শিক্ষার্থী তাদের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারের দাবীকৃত টাকা দিতে না পারলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া তাদের অ্যাসাইনমেন্টও জমা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এই ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহানগীর আলম সিকদার জানান, প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রনয় চাকমার নির্দেশ অমান্য করে, মনগড়াভাবে টাকা উত্তোলন করছে। আর ওই টাকার কোন রকম রশিদও শিক্ষার্থীদের না দিয়ে নিজের মত করে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

খবর পেয়ে, রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা ঐদিন ছুটে আসেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদে। এসময় মানববন্ধনে আসা উপস্থিত অভিভাবক,ছাত্র-ছাত্রীদের বলেন মানববন্ধন করার দরকার নেই। আমি প্রধান শিক্ষককে ডেকেছি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে লিখব। অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না বলে আশ্বাসও দিয়েছিল।