সিপ্লাস প্রতিবেদন: বর্তমান বিশ্বে আলোচনা আর সমালোচনায় মূল কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে আমেরিকার নির্বাচন। কে হচ্ছেন আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট? এনিয়ে বাংলাদেশেও চলছে তার চুলছেড়া বিশ্লেষণ। ফেসবুকে এক একজন এক এক রকম লিখে যাচ্ছেন।
সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু আলোচনা তুলে ধরা হলো।
চট্টগ্রামের প্রখ্যাত সাংবাদিক ফারুক ইকবালের নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন-
আমেরিকার নির্বাচনের গুরুত্ব যারা বুঝে-না, প্রবাসী বাঙালির সুখ, দুঃখ যাদের গায়ে লাগেনা
বর্ণবিদ্বেষ, বর্ণবাদের নীপিড়ন সম্পর্কে যাদের ন্যূনতম ধারণা নেই – কেবল তারাই বলে বা বলতে পারে,
আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে আমাদের এতো মাতামাতি কেন। ওরা ভাবেনা, আমেরিকায় কতো লাখ বাঙালি, কতো কোটি আফ্রো – এশিয়ান, হিস্পানিক ল্যাটিনো অভিবাসী!
ট্রাম্পের মতো ফ্যাসিস্ট শ্বেতাঙ্গদের চোখে এরা সবাই অচ্ছ্যুৎ, অপাংক্তেয় ! জো বাইডেনও একজন শ্বেতাঙ্গ বটে। তিনি দু’বার সাবেক ‘ব্ল্যাক ‘ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপন ও কালো – সাদার পার্থক্য ঘুঁচাতে চেয়েছিলেন। ওবামার আট বছরের শাসনামল ছিলো আমেরিকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবিক আচরণে বিশ্বময় অনন্য।
জো বাইডেন তাঁর রানিংমেট ছিলেন, নিপাট এক ভদ্রলোক এবং ডেমোক্রেটিক।
আমেরিকানরা একবার ভুল করেছিলো, দ্বিতীয়বার তা কাম্য নয়। একটা পাগলা গরু হোয়াইট হাউসকে নোংরা করুক এটা বিশ্ববাসী চায়না। করোনায় বিধিনিষেধ না মেনে তিনি হোয়াইট হাউসকে করোনা আক্রান্ত করেছেন।
আমেরিকার কাছ থেকে বিশ্ববাসী গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে শুরু করে মানবাধিকারের বিষয়েও দেশটিকে সোচ্চার দেখতে চায়।
ট্রাম্পের কাছ থেকে যা শুধুই দূরাশা।
লোকটা খুনীকে প্রশ্রয় দেয়, সৌদী মুক্তকন্ঠ খাসোগীর নির্মম হত্যাকে ট্রাম্প ধামাচাপা দিলো, কার স্বার্থে ?
মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সাধ ধুলোয় মিটিয়ে দিতে আবুধাবি, বাহরাইন, সুদান, ওমানকে ইসরায়েলের সাথে হাত মিলাতে বাধ্য করলো। সৌদিকে রাখলো প্রবল চাপে আদনান খাশোগী হত্যায় যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে, রীতিমতো ব্ল্যাকমেইলিং।
এসব করে মুসলিম বিশ্বকে, ধনী আরব অথচ বুদ্ধু দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিলো এই মদমত্তহস্তী।
লোকটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ুর উষ্ণতা রোধে প্যারিস চুক্তি, কভিড মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( wHO) থেকে সরে এসেছে।
সর্বশেষ, নিজদেশে নির্বাচন নিয়ে আমেরিকাকার জনগণকে সাদা – কালোয় বিভক্ত করে দিলো !
হোয়াইট হাউসে তারপরও তার থাকার কি অধিকার ?
গোটা বিশ্বকে শ্বেত ট্রাম্প তার কালো চিন্তায় অনিরাপদ, অস্বস্তিকর অবস্থায় পতিত করেছে।
তাকে বিদায় করুন, গোটা মানবজীবন তাতে সুখী হবে।
ধরিত্রী শীতল হবে, হাই প্রেসারের পাগল বিদায়ে।

