সিপ্লাস প্রতিবেদক: বন্দরে আবারও নিয়োগ বৈষম্যে চট্টগ্রামবাসী ফুসে উঠছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কোটা, পোষ্য কোটা এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্দরে তিন বছর ধরে ঝুলে থাকা কম্পিউটার অপারেটরসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ দেয়ার দাবী জানিয়েছে। অন্যথায় চট্টগ্রামের সকল শ্রেণির মানুষ নিয়ে বন্দর ভবন ঘেরাওসহ কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দর গেইটে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চাকরির প্রত্যাশায় তিন বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন থেকে এমন হুশিয়ারি দেন। মঙ্গলবারও (২২ সেপ্টেম্বর) তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
চাকুরী প্রার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, ’আমাদের আর কত দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আর্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এরপর কঠোর আন্দোলনে যাবো আমরা।’
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগির মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে চট্টগ্রামের মানুষকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর দাবি ছিল এটি। এর বাইরে কোন সিদ্ধান্তে গেলে চট্টগ্রামবাসী কঠোর আন্দোলনে যাবে।’
অভিযোগ উঠেছে, লেনদেনে বনিবনা না হওয়ায় এখনো পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে না। এছাড়াও জাতীয় নির্বাচনের পর প্রশাসনে রদবদল হওয়াকে ফলাফল প্রকাশ না হওয়ার কারণ বলা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ‘নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ পদের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল সর্বশেষ গত ২৬ আগস্ট ফলাফল ঘোষণা করার কথা থাকলেও তাও করেনি চবক।
নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগে কেন দেরী হচ্ছে জানতে চাইলে চবকের সচিব মো. ওমর ফারুক চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘কম্পিউটার অপারেটর পদে কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। তবে প্রশাসনিক কারণে বিলম্ব হতে পারে। যারা মানববন্ধন করেছেন, তারা তো জানার কথা না তাদের চাকুরী বন্দরে হবে কিনা। তবে বন্দর কতৃপক্ষ চাকুরীর নিয়োগের বিষয়ে সব ধরণের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।’
জানা গেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবার পরে নিয়োগ কমিটি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও কোটারভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত উক্ত পদের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেনি ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কম্পিউটার অপারেটর ও অন্যান্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি। তাতে কম্পিউটার অপারেটরের জন্য ৪১৬টি পদের জন্য জমা পড়া আবেদন থেকে পর যাচাই-বাছাই করে প্রায় ২৩ হাজার পরীক্ষার্থীকে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয় ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর। এতে উত্তীর্ণ হয় ৮৯০ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষাও দিয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণরা আর নিয়োগ পেলেন না গত প্রায় তিন বছরে।
খবর নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে নিম্নমান বহি. সহকারী, নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার পদ এবং জুনিয়র স্টোরম্যান পদে এক লাখ প্রার্থী আবেদন করে। এসব পদে এত বেশি আবেদন জমা পড়েছিল বাছাই করতে চট্টগ্রাম বন্দরকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। এর আগে সবগুলো নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। কিন্তু চবক প্রথমবার চট্টগ্রামের বাইরে গিয়ে ঢাকাতে এই পদের পরীক্ষা নিয়েছিল। এই পরীক্ষা নিতে বাড়তি খরচও বহন করতে হয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

