Site icon CPLUSBD.COM

বন্দর-পতেঙ্গাবাসীর দু:খ মুছতে বেপজা’র তিনটি ভবনকে সরকারি হাসপাতালে রুপান্তর

ছবি সিপ্লাসের

সিপ্লাস প্রতিবেদক: বন্দর-পতেঙ্গায় বিশাল এলাকাজুড়ে সরকারি হাসপাতাল এখন দৃশ্যমান হয়েছে। এলাকাজুড়ে বইছে খুশির জোয়ার। দ্রুত এ সরকারি হাসপাতাল চালু করার দাবি বন্দর-পতেঙ্গাবাসীর।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহর এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক সরকারি হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে পারলেও, সে সেবা প্রাপ্তি থেকে বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত বন্দর-পতেঙ্গা-ইপিজেড সহ তৎ সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।

বারে বারে দাবি উঠলেও সে দাবি পূরণে ছিলোনা কোনো বিশেষ উদ্যোগ। অবশেষে বন্দর-পতেঙ্গাবাসীর দু:খ মুছতে নির্মিত হওয়া বেপজা’ নারী প্রজেক্টের তিনটি ভবনকে হাসপাতালে রুপান্তর করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই হাসপাতালের তিনটি ভবনেই কার্যক্রম শুরু হবে। এই হাসপাতাল নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ এম এ লতিফ এমপি।

সিটি কর্পোরেশনের ৪০ নং ওয়ার্ডের উত্তর পতেঙ্গার বাসিন্দা সালাউদ্দিন সিপ্লাসকে বলেন, বিগত ২০১৮ সালে বন্দর-পতেঙ্গা এলাকার আশপাশে কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায়, সেদিন শহরের প্রধান হাসপাতালগুলোতে মূমুর্ষূ মাকে নিয়ে আসার সময় সড়কের জ্যামেই মারা যান তিনি। সেই স্মৃতি আজো কাঁদিয়ে বেড়াই আমাকে।

কেবল সালাউদ্দিন নয়, জ্যামে আটকে থেকে রাস্তায় ডেলিভারি হওয়া, নবজাতকের মা মারা যাওয়াসহ একাধিক ঘটনা এই জনপদের মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বলে জানান স্থানীয়রা।

তবে বন্দর পতেঙ্গার মানুষের দীর্ঘদিনের তীব্র কষ্ট আর হাসপাতাল নির্মাণের প্রাণের দাবি আজ দৃশ্যমান হতে চলেছে। ৪০ নং ওয়ার্ডের, র্যাব-৭ সদর দপ্তরের কিছুটা সামনে গেলেই যৌথ কলোনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দ্বারা পরিচালিত বেপজা’র নারী প্রজেক্টের গোটা পাঁচেক একর জায়গায় নির্মিত এই ৩টি ভবনেই প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং চূড়ান্ত স্থান নির্বাচন করেছেন দাবি চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ এম এ লতিফ।

এদিকে এমন খবরে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষদের মাঝে। অনেকে খবর পেয়ে ছুটে আসছেন দেখতে। কৃতজ্ঞতা জানান সরকার প্রধানের কাছে।

৪ তলা করে দুইটি বড় ভবন রয়েছে। আরো একটি বিশাল ভবনসহ মোট তিনটি ভবনেই সরকারিভাবে চালু হবে হাসপাতালের কার্যক্রম। হাসপাতালে আসার জন্য রয়েছে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ফৌজদারহাট থেকে আউটার রিং রোডে এই হাসপাতালে আসতে পারবেন উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মানুষও।

এছাড়াও বঙ্গবন্ধু টানেল চালু হলে দক্ষিণের মানুষও দ্রুততম সময়ে আসতে পারবেন হাসপাতালে। আর হাসপাতালের ঠিক পাশে রিং রোড দিয়ে একটি কানেক্টেড সড়ক করা হচ্ছে। যেটি সরাসরি মিলবে স্টিল মিল বাজারের ওয়াসা গলিতে।

আর মনোরম পরিবেশ হওয়ায় হাসপাতাল চালু হলে রোগী রোগীর স্বজনরা চিকিৎসা নিতে আসলে পাবেন মনস্বাত্বিক স্বস্থি। আর ছাদে উঠলেই মিলবে সাগরের দেখা।

হাসপাতালের ভবন দৃশ্যমান হলো, তাই এবার দ্রুততম সময়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম চালুর দাবি করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য: বছর তিনেক আগে ১২৮ কোটি ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এই প্রজেক্টের সবকটি ভবন। তবে হাসপাতালের কার্যক্রম ঠিক কবে থেকে চালু হবে। কোন ধরণের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। কোন ধরণের সুযোগ সুবিধায় এলাকাবাসী চিকিৎসাসেবা পাবেন। পরিচালনার নানা দিকসহ যাবতীয় তথ্যগুলো এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

বিস্তারিত দেখতে ভিডিও লিংকে ক্লিক করুন…