Site icon CPLUSBD.COM

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিশুমেলা’র নবান্ন উৎসব সম্পন্ন: ডিসি হিল সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি

বাংলার ঢোল, বাউল গান, শিশুদের নৃত্য, গিটার বাদনসহ নানা আয়োজনে নগরীতে পালিত হলো নবান্ন উৎসব।

ছোটদের সাংস্কৃতিক জগত শিশুমেলা’র আয়োজনে চট্টগ্রাম নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গনে নবান্ন উৎসব ১৪২৬ বঙ্গাব্দের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবারের মত এবারের মেলাও শুরু হয় বাংলার ঢোলের বোলে। এরপর গ্রামবাংলার তিনজন প্রান্তিক কৃষক হারুণুর রশিদ, মো. সোহেল এবং সোলায়মান চৌধুরী বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। সঙ্গে ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নবান্ন উৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব। এটা আমাদের ঐতিহ্যের, সংস্কৃতির অংশ। নতুন প্রজন্ম যারা শহুরে জীবনে বেড়ে উঠছে তারা হয়ত এর সাথে এত পরিচিত নয়। এ ধরণের আয়োজন যত বেশি হবে আমাদের নতুন প্রজন্ম বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য কৃষ্টির সাথে তত বেশি পরিচিত হবে। আমি শিশুমেলাকে ধন্যবাদ জানাই। তারা প্রতিবছর নবান্ন উৎসবের আয়োজন করে। একসময় এ আয়োজন ডিসি হিলে হত। অত্যন্ত দুর্ভাগ্য ডিসি হিল একসময় সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, কেন জানি না এক ধরণের বাধার কারণে সেটা ম্রিয়মান হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে তো বেশি সুযোগ নেই, উন্মুক্ত স্থানও নেই। প্রায় সব ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এখানে হত। ডিসি হিলে বছরে এখন দু’চারটি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয়। অনুষ্ঠান পরিচালিত না হওয়ায় ডিসি হিল অনেকটা জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। যেসমস্ত কারণে সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধা দেয়া হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে কিভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা করা যায় তার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করবো।

উৎসব উদযাপন কমিটির কো চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, আমাদের ডিসি হিলে সব ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, বই মেলা হত। যেকোন ভাবে সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতার নামে। মেয়রের কাছে দাবি জানাই ডিসি হিল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে ব্যবস্থা নিবেন।

উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান ডা. একিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড যখন বিস্তৃত করা দরকার তখন কেন জানি আমরা পিছনের দিকে হাঁটছি। ডিসি হিলে কেন সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হয়ে গেল? আজ মেয়র মহোদয় বলেছেন, প্রয়োজনে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে মেয়রের নেতৃত্বে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব। কোন বাধায় আটকে আছে তা আমরা অপসারণ করতে চাই। সামনে মুজিববর্ষ, চট্টগ্রামে মুজিববর্ষ আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু যেন ডিসি হিল হয় সে উদ্যোগ নিতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেলা কমিটির সমন্বয়ক রুবেল দাশ প্রিন্স, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা বালাগাত উল্লাহ এবং সমাজ সেবক সাহাব ‍উদ্দিন। বাংলার ঢোল বাজনার সাথে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের শুরু হয়।

এরপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাচ ও গান পরিবেশন করে। উৎসবের শেষ পর্বে দর্শক মাতান বাউল গুরু পাগলা বাবলু এবং বাউল শিল্পী জলি মণ্ডল।