নিউজটি শেয়ার করুন

বাঁচতে পারে হাজারো প্রাণ; করোনা রোগীদের জন্য বুয়েট বানাচ্ছে স্বল্পমূল্যের ‘অক্সিজেট’

করোনা রোগীদের জন্য বুয়েট বানাচ্ছে স্বল্পমূল্যের 'অক্সিজেট'

ডেস্ক প্রতিবেদন: অবশেষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) উদ্ভাবিত জীবনরক্ষাকারী ‘অক্সিজেট’ সিপ্যাপ যন্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সারা দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সংকট কাটিয়ে উঠতে আশার আলো জ্বালাচ্ছে এই ‘অক্সিজেট’।

প্রাথমিকভাবে ২০০ ইউনিট সিপ্যাপ যন্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করতে পারবে বুয়েট। এর আগে বুয়েট উদ্ভাবিত অক্সিজেট যন্ত্রটি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন না পাওয়ায় বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনীক আর হক আদালতের নজরে আনলে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার পরামর্শ দেন হাইকোর্ট।

অক্সিজেটের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তওফিক হাসান গণমাধ্যমকে বুধবার (২৮ জুলাই) রাতে এসব তথ্য জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শর্ত অনুযায়ী যেসব হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট আছে সেখানেই অক্সিজেট সিপ্যাপটি ব্যবহার করতে পারব। আমাদের ২০০ ইউনিটের সফলতার ওপর নির্ভর করবে অক্সিজেটের ভবিষ্যৎ। তবে আশা করছি আমরা সফল হবো।’

অক্সিজেট সিপ্যাপ যন্ত্রটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই সাধারণ ওয়ার্ডে মিনিটে ৬০ থেকে ৬৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবে। বুয়েটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যন্ত্রটি নিয়ে বলা হয়, করোনা আক্রান্ত রোগীদের দেহে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে প্রথমে স্বল্প মাত্রায় অক্সিজেন দিতে হয়। কিন্তু এই স্বল্প মাত্রায় রোগীর অবস্থার উন্নতি না হলে উচ্চগতির অক্সিজেন প্রবাহ প্রয়োজন পড়ে যা রোগীকে অবস্থার অবনতি রোধ করতে পারে। করোনা প্রকোপ শীর্ষে থাকা অবস্থায় আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে হাই-ফ্লো নেজাল কেনোলা যন্ত্র পাওয়া যায় না। এছাড়াও এ যন্ত্রগুলো ব্যয়বহূল ও ব্যবহার কৌশল জটিল হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয়। সহজে ব্যবহারযোগ্য অক্সিজেট সিপ্যাপ এই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন: ছেলের জন্য লাইফ সাপোর্ট খুলে দিয়ে মা গেলেন পরপারে, ছেলের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি) এর অনুমোদনক্রমে এটি ক্লিনিকাল ট্রায়াল এর প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে তৃতীয় ধাপের অনুমতি লাভ করেছে। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় দেখা যায়, চিকিৎসা দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে অক্সিজেট সিপ্যাপ রোগীদের রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা (অক্সিজেন স্যাচুরেশন) গড়ে ১১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ে।

এই অক্সিজেট যন্ত্রটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানোলার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে। যেখানে একটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার সর্বনিম্ন খরচ দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা সেখানে একটি সম্পূর্ণ অক্সিজেট ব্যবস্থা স্থাপন করতে খরচ হবে শুধুমাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আবার এই যন্ত্র চালাতে কোন প্রকার বিদ্যুৎ লাগে না।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম সহ সারা দেশের প্রায় সব উপজেলার বেশিরভাগ কোভিড রোগীদের শহরমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ এই হাই ফ্লো অক্সিজেনের অভাব। যার ফলে রোগীরা শহরের হাসপাতালে ভীড় করতেছে বাধ্য হয়ে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা। এই যন্ত্র যদি সফল হয়, তাহলে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায়ও কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় এই যন্ত্র বিশেষ ভূমিকা রাখবে। যেহেতু হাই ফ্লো অক্সিজেনের অভাবে রোগীকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ঠাঁই নিতে হয় সেখানে যদি এই যন্ত্র তার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে আইসিইউমুখী রোগীর ঢল দেখতে হবে না বাংলাদেশের। পাশপাশি কমতে পারে করোনায় মৃত্যুর হার।

আরো পড়ুন: চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের নতুন রেকর্ড, মৃত্যু ১৭