জসীম উদ্দীন বাঁশখালী প্রতিনিধি: বাঁশখালীতে প্রতিনিয়ত গভীর রাতে চলছে সরকারী পাহাড় কাটার রমরমা মহোৎসব।
পুরো বাঁশখালীর পুর্বে রয়েছে পাহাড় ও কিছু কিছু এলাকায় রয়েছে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য।
প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুম আসলেই নির্বিচারে একটু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই বড় বড় ডাম্বার দিয়ে মাটি কাটার অভিয়োগ অহরহ। এই পাহাড় একদিকে যেমন ক্ষতি করছে পরিবেশের অন্য দিকে বন জঙ্গল উজাড় করে ক্ষতি করছে বন্যা প্রাণীর।
বর্ষাকাল আসলেই বড় বড় পাহাড় গুলো ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খাবারের অভাবে বন্য প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসতেছে এবং মানুষকে আক্রমণের ঘটনা প্রায় সময়।

বাংলাদেশ আইন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ১নং আইন মোতাবেক পাহাড় কাটা সম্পর্কে বিধি-নিষেধ রয়েছে।
তবে শর্ত থাকে যে, অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে কোন পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইতে পারে। অন্যথায় পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষেধ।

পাহাড় খোকো স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়াতে মামলা ও হচ্ছে না সেই সাথে সরেজমিনে কোন ব্যক্তি মুখ খুলে কথা বলার সাহস করছে না।
সরেজমিনে গিয়ে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সকাল ১০ টায় বাঁশখালীর পাহাড়ি জনপদ ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে সাধনপুর, বানীগ্রাম, পাইরাং, চাম্বল, নাপোড়া সহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় শুধু পাহাড় কাটা নয়, পাহাড়ে আগুন দিয়ে নির্মম ভাবে পুড়িয়ে কালো করে দেয়া হচ্ছে পাহাড়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন লোক বলেন, প্রশাসন ও বন বিভাগের কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নাই বলে, সেই সাথে পাহাড় কাটার সময় তাদের কল দিলে কল রিসিভ করে না কিংবা আমি ছুটিতে আছি বলে এডিয়ে যায়। পাহাড়ের মাটি বোজাইকৃত ট্রাক চলাচলের কারণে আমাদের রাস্তার ভেঙ্গে যাচ্ছে। দিন দিন এই ভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে আমাদের এলাকায় গুলো পাহাড় শূন্য হতে আর বেশি দিন লাগবে না। সেই সাথে আমাদের প্রতিনিয়ত হাতির আক্রমণের স্বীকার হতে হচ্ছে। অন্য দিকে গাছ ও জীববৈচিত্র গুলো মধ্যে নানা ধরনের পাহাড়ি ঔষুধি গাছ ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী ছন হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার ফলে শীতকালে মাত্রাতিরিক্ত শীত এবং গরমের দিনে মাত্রাতিরিক্ত গরম পড়বে বলে ধারনা করছে বিশেষজ্ঞরা।
এই ব্যাপারে সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন চৌধুরী খোকা বলেন, আমাদের এলাকায় যারা পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধ মামলা করে জেলে পাটানো হয়েছে। পরে জেল থেকে এসে আবার পাহাড় কাটে। নতুন করে কোন ব্যক্তি পাহাড় কাটছে কিনা আমি ওয়াকিবল নই। যদি পাগাড় কাটে তাহলে আমরা উপজেলা প্রশাসনকে সহয়োগিতা করে সবাইকে আইনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করবো।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমেনা আক্তার বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার দায়িত্ব আমরা সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে অবশ্যই আমাদের, আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। আমরা আসলে আমাদের দিক থেকে অবহেলা করছি না করবো ও না। আমরা নিয়মিত মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে অভিয়ান পরিচালানা করে আইনের আওতায় আনবো।








