Site icon CPLUSBD.COM

বাঁশখালীর আলোচিত জলদস্যু সর্দারসহ ১০ জনের আত্মসমর্পণ

জসীম উদ্দীন,বাঁশখালী প্রতিনিধি: নিজের ভূল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া এলাকার আব্দুল হাকিম প্রকাশ (বাইশ্যা) সহ ১০ সদস্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেইফহোমে নেয়া হয়েছে।
২ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে ছনুয়া এলাকা থেকে তাঁদেরকে সেইফহোমে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম র‌্যাব -৭ এক শীর্ষ কর্মকতা ।
ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বলেন, আলোচিত দস্যু বাহিনীর প্রধান বাইশ্যা বিভিন্ন এলাকায় আস্তানা গেড়ে সাগরে দস্যুতা করে আসছিল সে হয়তো নিজের ভূল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যাচ্ছে। এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনমনে স্বস্থি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে সাগরে ও বাঁশখালী শান্তি ফিরিয়ে আনার তাগিদেই আলোচিত দস্যু বাইশ্যা ও তার ১০ অনুসারিরা আত্মসমর্পণ করতে সম্মত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দফায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে দক্ষিন চট্টগ্রামের উপকূলের বাঘা-বাঘা জলদস্যু, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগররা। এমনটাই জানিয়েছেন প্রশাসনের একাধিক সূত্র। বর্তমানে এসব জলদস্যু, সন্ত্রাসী অস্ত্র কারিগর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে চলে গেছে।
চলতি মাসের যে কোন দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ও ডিজির উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও প্রায় শতাধিক জলদস্যু অস্ত্র ও গোলাকারুদ নিয়ে আত্মসমপন করতে যাচ্ছে বলে ধারনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। স্থানিয়রা মনে করছেন ডাকাত প্রবণ এলাকা বাঁশখালী উপকূলে জলের কুমিরকে ডাঙ্গায় এনে সাংবাদিক আকরাম হোসের মধ্যস্থায় এ আত্মসমপণের মধ্যে দিয়ে শান্তি ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য,গত ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রথম আলোচিত সাংবাদিক আকরাম হোসেনের মধ্যস্ততায় র‍্যাব-৭ এর সহায়তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও র‌্যাবের ডিজির উপস্থিতিতে মহেশখালীর আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ৫ টি বাহিনীর ৩৭ জনসহ ৪৩ জলদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২য় দফায়
২০১৯ সালে ২২ নভেম্বর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় একযোগে মহেশখালীর কালারমারছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেন ১২টি সন্ত্রাসী বাহিনীর ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর। এ সময় তাঁরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৮৪ রাউন্ড গুলি, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন যন্ত্র জমা দেন। তাঁরা সবাই জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়ার জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগর।